১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:২৯

পাবিপ্রবি ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব, প্রতিবাদ করায় সাবেক সেনাসদস্যকে মারধরের অভিযোগ

পাবিপ্রবি ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব দেয়া অভিযুক্ত সেলিম দর্জি  © সংগৃহীত

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব ও উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় ইউসুফ আলী খান (৬০) নামে এক সাবেক সেনাসদস্যকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে এক দর্জির বিরুদ্ধে।

‎মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের রাজাপুর ক্যালিকো কটন মিলের সামনে ডা. ইয়াজ উদ্দিন খাঁ সুপার মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

‎আহত ইউসুফ আলী খান পাবনা সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি পাবনা থানায় এ ঘটনায় সেলিম হোসেন ওরফে ‘দর্জি সেলিম’ (৫৫)-এর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

‎অভিযোগে ইউসুফ আলী খান উল্লেখ করেন, রাজাপুর ক্যালিকো কটন মিলের সামনে তার একটি মুদিখানার দোকান রয়েছে। দোকানের পেছনের বসতবাড়িতে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রী মেস হিসেবে ভাড়া থাকতেন। তার পাশের দোকানে দর্জির কাজ করেন সেলিম হোসেন।

‎দীর্ঘদিন ধরে সেলিম ওই ছাত্রীদের যাতায়াতের সময় বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব ও অশালীন কথা বলে বিরক্ত করতেন। এ কারণে কয়েকজন ছাত্রী মেস ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। পরে বিষয়টি জানার পর ইউসুফ আলী খান সেলিমকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সেলিম তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

‎অভিযোগে আরও বলা হয়, মঙ্গলবার বিকেলে ইউসুফ আলী খানের দোকানের সামনে এসে সেলিম অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে সেলিম হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ইউসুফ আলীর মাথায় আঘাত করলে মাথার বাম পাশে ফেটে যায়। ‎পরে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে সেলিম লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তার মাথা, হাত, পিঠ, বুক, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতে আহত হন।

‎এ সময় তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত সেলিম তাকে আরও হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, এ বিষয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে তাকে খুন-জখম এবং তার দোকানের ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে সেলিম ঘটনাস্থল থেকে সটকে পরে।

‎পরে স্থানীয়রা আহত ইউসুফ আলী খানকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মেসে থাকা পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দর্জি সেলিম আমাদের নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছেন। মেস থেকে বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার সময় তিনি আমাদের ডাক দিয়ে অশ্লীল ভাষায় কথা বলেন এবং বিভিন্ন ধরনের অশালীন অঙ্গভঙ্গি করেন। তার এসব আচরণে আমরা অনেকেই আতঙ্ক ও অস্বস্তির মধ্যে চলাফেরা করি। এ কারণে আমাদের বেশ কয়েকজন বান্ধবী মেস ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। আমরা এ ধরনের হয়রানির দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও আইনগত শাস্তি চাই।

‎অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সেলিম হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‎পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনা জানতে পেরে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগও দিয়েছর। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।