১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৫৩

রিকশা-ইজিবাইকের সঙ্গে যানজট বাড়াচ্ছে ফুটপাত দখল-অবৈধ পার্কিং

যশোর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোয় যানবাহনের চাপ বেড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন নগরবাসী  © টিডিসি

রিকশা, ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের আধিক্যের পাশাপাশি ফুটপাত দখল করে ব্যবসা, সড়কের পাশে অবৈধ পার্কিং এবং পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় যশোর শহরে যানজট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বড় বাস ও কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যানের অবাধ প্রবেশ। ফলে ব্যস্ত সময়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ বেড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, ভোগান্তিতে পড়ছেন নগরবাসী।

শহরের দড়াটানা, কোর্ট মোড়, মুজিব সড়ক, সার্কিট হাউসের সামনে, চারখাম্বা, সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখার সামনের মোড়, বস্তাপট্টি, এমএসটিপির সামনে, পোস্ট অফিস এলাকা, সরকারি গার্লস স্কুলের সামনে, চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, বকুলতলা, ঘোপ সেন্ট্রাল রোড, ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের কুইন্স হাসপাতালের সামনে, জেল রোড, চিত্রা মোড়, চৌরাস্তা, আরএন রোড ও মণিহার এলাকায় তীব্র যানজট দেখা যায়।

বকুলতলা থেকে জেল রোড, বকুলতলা থেকে দড়াটানা হয়ে মুজিব সড়ক, দড়াটানা থেকে আরএন রোড, দড়াটানা থেকে জেল রোড এবং দড়াটানা থেকে বিমান অফিস মোড় পর্যন্ত, এর প্রভাব পড়ে আশপাশের সড়কেও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন অন্তত ১৯টি বড় বাস অফিস সময়ের মধ্যে শহরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। এর মধ্যে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি, শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের তিনটি, দাউদ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুটি, মেডিকেল কলেজের দুটি এবং সখিনা বালিকা বিদ্যালয়ের একটি বাস রয়েছে। অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাসও বিভিন্ন রুটে শহরের সড়ক ব্যবহার করে।

এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন অলিগলি ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কুরিয়ার সার্ভিসের বড় কাভার্ড ভ্যান প্রবেশ করায় বিকেলের যানজট আরও বাড়ছে। প্রতিদিন বিকেলে এসব কাভার্ড ভ্যান পণ্য ওঠানো ও নামানোর জন্য সড়কের পাশে কিংবা সরু গলিতে অবস্থান নেয়। এতে একদিকে সড়কের একটি অংশ দখল হয়ে যায়, অন্যদিকে পণ্য ওঠানামার সময় পেছনে যানবাহনের সারি তৈরি হয়।

একই সময়ে শহরের ফুটপাতের বড় অংশ দখল করে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। দোকানের পণ্য ফুটপাত পর্যন্ত রাখা, কোথাও করা হয়েছে অস্থায়ী দোকান।

অভিযোগ রয়েছে, শহরের অধিকাংশ দোকানের সামনের ফুটপাত ও খোলা জায়গা নিম্ন আয়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে দিন চুক্তিতে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে।

শহরের এইচএমএম রোডে ফুটপাতে বসেন ব্যবসায়ী ওমর আলী। তিনি জানান, পেছনের দোকানদারকে দিনে ২০০ টাকা চুক্তিতে তিনি বসেন। তার পাশে বসা ইন্দ্রজিৎ, আবু বক্কর ও মো. রাজুও একই কথা জানান।

তবে এ বিষয়ে দোকানের মালিকরা কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

জনতা মার্কেটের বাহার আলী নামে এক দোকানি জানান, সামনে থাকা আবু বক্কর এখান থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েছেন, সে হিসেবে প্রতিদিন তার কাছ থেকে ২০০ টাকা নেওয়া হয়।

প্রাইমারি স্কুল শিক্ষক শরিফুল ইসলাম বলেন, ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্ধারিত। কিন্তু দিনের পর দিন সেটি ব্যবসার জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পথচারী আজিজুর রহমান বলেন, ফুটপাত দখলের কারণে মানুষ সড়কে নেমে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছে। এতে যানবাহনের চলাচলের জায়গা আরও কমে যাচ্ছে।

এদিকে যশোর পৌরসভার হিসাব অনুযায়ী, শহরে অনুমোদিত প্যাডেল রিকশার সংখ্যা দেড় হাজারের কিছু বেশি। অনুমোদিত ইজিবাইক রয়েছে দুই হাজার ৯৭৫টি এবং স্মার্ট রিকশা ২৯টি। এর বাইরে অনুমোদনবিহীন রিকশা, ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা প্রায় ১৯ থেকে ২০ হাজার বলে পৌরসভার হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, বিকেল ৫টার দিকে অফিস থেকে বের হয়ে শহরের প্রায় সব সড়কেই মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, ইজিবাইক, রিকশা, ভ্যান ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ দেখতে পাই। ইজিবাইকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পর পরিস্থিতি খারাপ দেখে তিনি হেঁটে রওনা হন।

নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ মাসুদুর রহমান মিঠু বলেন, শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা এখন মারাত্মক সমস্যার মধ্যে পড়েছে। সড়ক আটকে গাড়ি পার্কিং করার কারণে যানজট আরও প্রকট হচ্ছে।

এ বিষয়ে জেলা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান বলেন, পুলিশ জনগণকে স্বস্তি দিতে রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠে কাজ করছে। শহরে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

যানজটের বিষয়ে তিনি বলেন পৌরসভাকে সঙ্গে নিয়ে মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং অভিযান চলমান আছে। তিনি শহরবাসীকে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সড়কে অনিয়ম দেখলে ট্রাফিক পুলিশকে সঠিক তথ্য প্রদানেরও অনুরোধ জানান।

যশোর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী কামাল হোসেন বলেন, শহরে যানজট আগের তুলনায় বেড়েছে। কয়েক দিন আগেও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। যানজট কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।