ময়মনসিংহে মেডিকেলে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত নারীর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ৫৩
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তাসলিমা আক্তার (৪০) নামের এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালটিতে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। একই সময়ে নতুন করে ৫৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের সহকারী ফোকাল পারসন ডা. মো. সেলিম উদ্দিন ২৪ ঘণ্টার সর্বশেষ আপডেটে এসব তথ্য জানান।
মৃত তাসলিমা আক্তার নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার তাহেরপুর এলাকার বাসিন্দা। গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ৬৭ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১৩৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮৩ জন পুরুষ, ৪৬ জন নারী ও ৭ জন শিশু।
হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মোট ২ হাজার ১২৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শুরু থেকেই হাসপাতালের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডকে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আইসোলেটেড ওয়ার্ড হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে বিশেষ ব্যবস্থাপনা টিমের মাধ্যমে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্সসহ পৃথক জনবল নিয়ে এই টিম গঠন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনায় হাসপাতালের ফোকাল পারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ডা. এমদাদ এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ফোকাল পারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডা. সেলিম। তাদের তত্ত্বাবধানে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতালের পরিচালক, উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালকসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ও সার্বিক পরিস্থিতি তদারক করছেন।
ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ১ হাজার শয্যার হওয়ায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আরও বাড়লে অতিরিক্ত রোগীদের জন্য জায়গা ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তবে এটি জাতীয় পর্যায়ের একটি সংকট হওয়ায় পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে।