১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৭

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাসের বুকে ঐতিহাসিক নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাসের বুকে ঐতিহাসিক নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত  © টিডিসি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীর বুকে আনন্দ-উচ্ছ্বাস এবং লাখো দর্শকের করতালি ও আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে অনুষ্ঠিত হয়েছে নৌকা বাইচ। টানা দুই বছর বন্ধ থাকার পর গতকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। 

৫ আগস্ট পরবর্তীতে বিভিন্ন পরিস্থিতির জন্য দুই বছর এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা সম্ভব হয়নি বলে এবারের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচে দর্শকদের উচ্ছ্বাস যেন একাকার হয়ে উঠেছিল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার শিমরাইল কান্দি গাঁওগেরাম তিতাসের পয়েন্ট থেকে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে পৌর এলাকার মেড্ডা সরকারি শিশু পরিবার পর্যন্ত (প্রায় দেড় কিলোমিটার) গিয়ে প্রতিযোগিতা শেষ হয়। নৌকা বাইচে জেলার সদর, নবীনগরসহ বিভিন্ন স্থানের ১০টি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রতিটি ধাপ থেকে একটি করে বিজয়ীসহ চারটি নৌকা চূড়ান্ত প্রতিযোীগতায় অংশ নেয়।

বিকেল সাড়ে ৩টায় তিতাসের শিমরাইলকান্দি গাঁওগেরাম পয়েন্টে বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং জেলা বিএনপির সভাপতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া—৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। উদ্বোধনের পর রং বে-রঙের বাহারি পোশাক পরিহিত প্রতিযোগী নৌকা বাইচের মাঝিদল তাদের সুসজ্জিত নৌকা নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।

অনুষ্ঠান দেখতে আসা আইন মন্ত্রণালয়ের চাকুরিজীবী সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমি ঢাকা থেকে এ অনুষ্ঠান দেখার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে আসছি। গত দুই বছর এ অনুষ্ঠান বন্ধ ছিল। এবার চালু হবার কারণে আমাদের মধ্যে উৎসবমুখর একটা পরিবেশ বিরাজ করছে। জেলা প্রশাসক মহোদয়কে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। 

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং জেলা বিএনপির সভাপতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ ( সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল । 

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৌরসভার প্রশাসক শরিফুল ইসলাম প্রমুখ। 

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোমানা আক্তার ও চিকিৎসক মো. আব্দুল মতিন। এতে প্রথম স্থান অধিকারী সরাইল উপজেলার শাপলা ভযেস ক্লাবকে দুই লক্ষ টাকা, দ্বিতীয় স্থান অধিকারী জেলা সদরের দারমা গ্রামের নৌকাকে দেড় লক্ষ টাকা এবং তৃতীয় স্থান অধিকারী জেলার নবীনগরের পুইল যুব সংঘকে এক লক্ষ টাকা পুরস্কৃত করা হয়। এছাড়াও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক দলকে নগদ ৩০ হাজার টাকা ট্রফি প্রদান করা হয়। 

উৎসবমুখর পরিবেশে এ নৌকা বাইচ উপভোগ করতে তিতাসের দুই তীরে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক দর্শনার্থী জড়ো হন। তারা তীরবর্তী ভবনের ছাদ, বিভিন্ন ঘাট এবং নৌযানের ওপর বসে প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন।