মহাসড়ক দখল করে নির্মাণ, শিশু পার্কের পর এবার অর্ধনির্মিত ভবন উচ্ছেদ
বরিশাল নগরের চৌমাথা লেকসংলগ্ন ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের জায়গা দখল করে নির্মিত শাহান আরা বেগম শিশু পার্কের পর এবার পার্কসংলগ্ন অর্ধনির্মিত দোতলা গোলাকৃতির ভবন ভাঙা শুরু করেছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। বৃহস্পতিবার করপোরেশনের উচ্ছেদ শাখা ভবনটি অপসারণের কার্যক্রম শুরু করে।
বিসিসি জানিয়েছে, চৌমাথা এলাকায় সড়ক প্রশস্তকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মহাসড়কসংলগ্ন অবৈধ স্থাপনাগুলো পর্যায়ক্রমে অপসারণ করা হচ্ছে।
সাবেক বরিশাল সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর মা শাহান আরা বেগমের নামে ২০২২ সালে চৌমাথা লেকসংলগ্ন এলাকায় শিশু পার্কটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পার্কটির একটি বড় অংশ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
পার্কটির পাশেই মহাসড়কের জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছিল দোতলা একটি গোলাকৃতির ভবন। বিসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল বাশার জানান, ভবনটিতে রেস্তোরাঁ করার পরিকল্পনা ছিল তৎকালীন ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সাঈদ আহমেদ মান্নার। ভবনটি টেন্ডার ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল। পরে এটি বরাদ্দ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
এর আগে, গত বছরের ১৬ জানুয়ারি নগরবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শিশু পার্কটি অপসারণের উদ্যোগ নেয় সিটি করপোরেশন। পরবর্তী সময়ে পুরো পার্কটি ভেঙে ফেলা হলেও লেক ও পার্কের মাঝামাঝি থাকা অর্ধনির্মিত গোলচত্বর ভবনটি এত দিন অক্ষত ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবির মুখে এবার সেটিও অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইদ হোসেন বলেন, ‘ভবনটিও ছিল একটি অবৈধ স্থাপনা। এটি অপসারণ করে রাস্তা প্রশস্ত করা হলে এ এলাকায় যান চলাচল আরও নিরাপদ হবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমবে।’
বিসিসির উচ্ছেদ শাখার প্রধান লকিতুল্লাহ সিকদার বলেন, ‘লেকের আশপাশের ছোট দোকানপাট অপসারণ করা হয়েছে। গোলচত্বর ভবনটিও ভাঙা শুরু হয়েছে। ভবনটি অপসারণের পর সেখানে কী করা হবে, তা পরে জানানো হবে।’
বিসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল বাশার বলেন, অর্ধনির্মিত গোলাকৃতির ভবনটি ভেঙে সেখানে সড়ক প্রশস্তকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হবে।
তবে টেন্ডার ছাড়াই সিটি করপোরেশনের জায়গায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ভবন নির্মাণের কাজ কীভাবে শুরু হয়েছিল—এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি এই প্রকৌশলী।