০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৪৫

দুই মাছ দিয়ে শুরু, রঙিন মাছের ব্যবসায় সফল আব্দুল্লাহ

রঙিন মাছ বিক্রি করে স্বাবলম্বী আব্দুল্লাহ।  © টিডিসি ফটো

শখের বশে বাড়ির উঠানে মাত্র দুটি রঙিন মাছ দিয়ে শুরু করেছিলেন। সেই ছোট্ট শখই আট বছরের নিরলস পরিশ্রম, ধৈর্য ও অধ্যবসায় আজ রূপ নিয়েছে একটি সফল বাণিজ্যিক উদ্যোগে। যশোরের কেশবপুর উপজেলার মাগুরখালি গ্রামের ২২ বছর বয়সী তরুণ মো. আব্দুল্লাহ এখন বাড়ির উঠানে ৫৬টি হাউজ ও পুকুরে প্রায় ২২ প্রজাতির রঙিন মাছ চাষ ও প্রজনন করছেন। উৎপাদন করছেন লক্ষাধিক মাছের পোনা। অনলাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এসব মাছ বিক্রি করে তিনি স্বাবলম্বী হয়েছেন।

জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে নিছক শখের বশে দুটি রঙিন মাছ সংগ্রহ করেছিলেন আব্দুল্লাহ। তখন কোনো ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ছিল না। শখের সেই দুটি মাছের সুনিপুণ পরিচর্যা ও প্রজননের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে মাছের সংখ্যা। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রজাতির রঙিন মাছের প্রতি তাঁর আগ্রহও বহুগুণ বেড়ে যায়। একপর্যায়ে শখের পরিসর পেরিয়ে বড় পরিসরে মাছ চাষের স্বপ্ন দেখেন তিনি। নিজের আগ্রহ, শ্রম ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শখের এই উদ্যোগকে আজ তিনি পরিণত করেছেন লাভজনক বাণিজ্যিক খামারে। 

বর্তমানে আব্দুল্লাহর বাড়ির উঠানজুড়ে গড়ে উঠেছে রঙিন মাছের ছোটখাটো একটি প্রকল্প। তার খামারে ফাইটার ফিশ, গোল্ডফিশ, কইকাপ, কমেট, মিক্স গাপ্পি, ব্ল্যাক মন্টেল, ব্ল্যাক ননমন্টেল, ব্ল্যাক বেলুন মলি, হোয়াইট বেলুন মলি, রেডিয়াম হোয়াইট মলি, স্টেল, প্লাটি ও জেব্রাসহ প্রায় ২২ প্রজাতির রঙিন মাছ রয়েছে।আব্দুল্লাহ জানান, বর্তমানে তার খামারে প্রায় লক্ষাধিক রঙিন মাছের পোনা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় এসব মাছের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মাছের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। 

এরপর কুরিয়ার বা বিভিন্ন মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাছ পাঠিয়ে দেন।তার এই সাফল্য এলাকার অন্য তরুণদেরও দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করছে। আব্দুল্লাহর দেখাদেখি নতুন উদ্যোক্তা মাইনুদ্দিন হাসান জুনায়েদসহ এলাকার প্রায় এক ডজন তরুণ ইতোমধ্যে রঙিন মাছের চাষ শুরু করেছেন। উদ্যোক্তা মাইনুদ্দিন বলেন, "অল্প জায়গায় পরিকল্পিতভাবে রঙিন মাছের চাষ ও প্রজনন করা সম্ভব। বাড়ির আঙিনা কাজে লাগিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ নিলে তরুণদের কর্মসংস্থান ও অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।

কেশবপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস বলেন, ‘রঙিন মাছ চাষ অল্প জায়গাতেই করা সম্ভব এবং এর বাজারে ভালো চাহিদা রয়েছে। বাড়ির আঙিনা বা অব্যবহৃত জায়গাকে কাজে লাগিয়ে তরুণরা পরিকল্পিতভাবে রঙিন মাছের চাষ করলে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ভালো আয় করতে পারেন। আব্দুল্লাহ শখ থেকে শুরু করে যেভাবে রঙিন মাছের চাষকে বাণিজ্যিক পর্যায়ে নিয়ে গেছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় ও অন্য তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ সব সময় দেওয়া হয়ে থাকে।’