০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:৪৬

চাঁদপুরে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার নামে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

চাঁদপুরে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার নামে চাঁদা আদায়ের রশিদ  © টিডিসি সম্পাদিত

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান আয়োজনের নামে উপজেলার ৬৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিষ্ঠানপ্রতি ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ২ লাখ ২০ হাজার ৫০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, একাডেমিক সুপারভাইজার ও মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক।

তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ফারুকুল আলম বলেছেন, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করেই ক্রীড়া ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়ে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৫৩তম বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করছে মতলব উত্তর উপজেলা মাধ্যমিক স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতি। অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির মতলব উত্তর উপজেলার রসিদ ব্যবহার করে সদ্য গঠিত মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে ৬৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এ অর্থ আদায় করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানপ্রতি ৩ হাজার ৫০০ টাকা হিসাবে মোট ২ লাখ ২০ হাজার ৫০০ টাকা ক্রীড়া ফি হিসেবে উত্তোলন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ছিদ্দিকা বেগম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুল হক পাটোয়ারী বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিস ও একাডেমিক সুপারভাইজারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষক সমিতির নেতৃত্বে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন কর্মসূচির নামে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন ক্রীড়া আয়োজন, শিক্ষক সমাবেশসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে। গত মাসেও শিক্ষক সমাবেশের কথা বলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে ২ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

তাঁদের আরও অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা কর্মসূচি সফল করার নামেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ নির্ধারণ করা হয়। অনেক প্রধান শিক্ষক অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষক সমিতির চাপের কারণে এসব টাকা দিতে বাধ্য হন।

অভিযোগকারী প্রধান শিক্ষকরা বলেন, আদায় করা এসব টাকা কোথায়, কীভাবে এবং কতটুকু খরচ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে অনেক ক্ষেত্রে স্বচ্ছ হিসাব পাওয়া যায় না। টাকা উত্তোলন ও ব্যয়ের বিষয়ে নিয়মিত রেজুলেশন করা হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে শিক্ষক সমিতির নামে আদায় করা অর্থের হিসাব ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ওটারচর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিস, একাডেমিক সুপারভাইজার ও শিক্ষক সমিতির সমন্বয়ে ক্রীড়া ফি বাবদ ৩ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাঁর প্রতিষ্ঠান থেকেও রসিদ দিয়ে ওই টাকা নেওয়া হয়েছে।

নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আরিফুল্লা বলেন, গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন উপলক্ষে শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ আলোচনা করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে দিতে বলেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠান থেকেও রসিদ দিয়ে টাকা নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও ধনাগোদা তালতলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক ফারুকুল আলম বলেন, ‘উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিষ্ঠানপ্রতি ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রীড়া ফি উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে মোট প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলন হবে।’

তবে এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এ কে এম জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীপ্রতি ১২ টাকা করে ক্রীড়া খরচের ফি ধরা হয়েছে। এর বাইরে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন করে থাকলে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন করা হয়ে থাকলে তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।’

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ‘গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন প্রতি বছরই হয়। তবে শিক্ষক সমিতি ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস রসিদ দিয়ে টাকা উত্তোলন করছে—এ বিষয়ে আমার জানা নেই।’