লামায় ৩ দিনের মধ্যে পাহাড় কাটা বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের
বান্দরবানের লামা উপজেলায় ইটভাটাকে কেন্দ্র করে পাহাড় কাটা বন্ধে ৩ দিনের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে স্থানীয় সেনা ক্যাম্পের কমান্ডারকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) পাহাড় কাটার ঘটনায় করা একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালত একই সঙ্গে একটি মনিটরিং টিম গঠন করে তিন দিনের মধ্যে লামায় পাহাড় কাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ১৫ ধারা অনুযায়ী সাত দিনের মধ্যে শাস্তি ও অর্থদণ্ডের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া হাইকোর্ট চার সপ্তাহের রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, লামায় পাহাড় কাটা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, বান্দরবানজুড়ে পাহাড় কাটা ও ধ্বংস বন্ধে কেন প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং ইতোমধ্যে কেটে ফেলা পাহাড়গুলো পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না।
জানা গেছে, লামায় ইটভাটার মাটি সংগ্রহের জন্য পাহাড় কাটার অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)-এর পক্ষে গত ৩০ আগস্ট হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। আইনজীবী মো. ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী ও রিপন বারৈ রিটটি করেন। শুনানিতে রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে লামার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কেটে মাটি ইটভাটায় সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। এতে পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করা হলেও পাহাড় কাটা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের দাবি, হাইকোর্টের নির্দেশ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে পাহাড় কাটা বন্ধে কার্যকর পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।