মামলার তদন্তে আড়াই বছর পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের কাকুড়া গ্রামে ওরসের আসরে দুই যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্তে প্রায় দুই বছর সাত মাস পর আব্দুল কালাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তির লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
সোমবার সকালে আদালতের নির্দেশে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের উপস্থিতিতে কাকুড়া-করিমপুর গ্রামের একটি কবরস্থান থেকে তাঁর লাশ উত্তোলন করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেমের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এ সময় পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি কাকুড়া গ্রামের হযরত নবীন শাহ (রহ.) মাজারে বার্ষিক ওরস অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে মাজারের সামনে নাচ-গানের আয়োজন করা হয়েছিল। নাচের একপর্যায়ে কাকুড়া গ্রামের গেদা মিয়ার ছেলে আব্দুল কালাম ও ঘোলডুবা গ্রামের আব্দুল আজিজ (৪২) অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়।
পরদিন পৃথক সময়ে জানাজা শেষে তাঁদের দাফন করা হয়।
আব্দুল কালামের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর ভাই সুমন মিয়া বাদী হয়ে হবিগঞ্জ আদালতে হত্যা মামলা করেন। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ওরসের আসরে পানের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে আব্দুল কালামকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
পরে আদালত মামলাটির তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেন। তদন্তের অংশ হিসেবে পিবিআইয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আব্দুল কালামের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেম বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার তদন্তের স্বার্থে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আব্দুল কালামের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে। মামলায় করা বিষ প্রয়োগের অভিযোগের সত্যতাও তদন্ত ও ময়নাতদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।