সুন্দরবনের জেলেদের খাদ্য সহায়তা দিল সরকার, প্রকৃত জেলেদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ
সুন্দরবনে মাছ ধরার অনুমতিপত্র (বিএলসি) থাকা জেলেদের জন্য প্রথমবারের মতো খাদ্য সহায়তা দেওয়া শুরু করেছে সরকার। তবে সহায়তার তালিকা থেকে বৈধ বিএলসিধারী অনেক প্রকৃত জেলে বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সুন্দরবনে মাছ ধরেন না এমন ব্যক্তিদেরও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ করেছেন জেলেরা।
আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদে জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
জেলেদের অভিযোগ, বৈধ বিএলসি ও জেলে কার্ড থাকা সত্ত্বেও তাদের অনেকের নাম খাদ্য সহায়তার তালিকায় নেই। অন্যদিকে সুন্দরবনে মাছ ধরার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এমন কয়েকজনের নামও তালিকায় রয়েছে। এতে তালিকা তৈরির প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
গাবুরা ইউনিয়নের এক জেলে বলেন, বিএলসি থাকা সত্ত্বেও আমরা সহায়তা পাচ্ছি না। অথচ অনেকে সুন্দরবনে মাছ ধরেন না, তারাও তালিকায় আছেন। আমরা প্রকৃত জেলেদের যাচাই করে সহায়তার আওতায় আনার দাবি জানাই।
এ বিষয়ে গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম বলেন, বন বিভাগ থেকে পাওয়া তালিকার ভিত্তিতে মৎস্য বিভাগ গাবুরা ইউনিয়নের ৬২৫ জন জেলের তালিকা প্রস্তুত করেছে। তাঁদের প্রত্যেককে ৮০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ শুধু বরাদ্দ পাওয়া চাল জেলেদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছে। তালিকা তৈরির সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
শ্যামনগর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তৌহিদ হাসান বলেন, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে মোট ২ হাজার ৫৭৪ জন মাছ ধরা জেলেকে এ খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সুন্দরবনে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জেলেদের জন্য সরকার এবারই প্রথম এ ধরনের খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে।
তিনি বলেন, কোনো জেলে তালিকা থেকে বাদ পড়ে থাকলে তিনি বিএলসি, জেলে কার্ড ও জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি দিয়ে মৎস্য দপ্তরে আবেদন করতে পারবেন। উপজেলা কমিটির সভায় বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরপর পুনরায় বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে।
সুন্দরবনে মাছ ধরার ওপর তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের প্রধান আয়ের পথ বন্ধ থাকে। এ সময়ে তাদের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রকৃত জেলেরা বাদ পড়লে সহায়তার উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।