০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৩৮

জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে, এলাকায় পুলিশের সতর্কতা জারি

জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ  © সংগৃহীত ছবি

খুলনার খানজাহান আলী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ হাওলাদার আব্বাসের বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ করেছেন এনসিপি নেতা সাজিদুল ইসলাম বাপ্পি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে সতর্কীকরণ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শনিবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আবু সাইদ হাওলাদার আব্বাসের বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ তোলেন সাজিদুল ইসলাম বাপ্পি। তার দাবি, দলিলপত্র অনুযায়ী নির্ধারিত সীমানার মধ্যে তারা জমিতে কাজ করতে গেলে একটি পক্ষ বাধা সৃষ্টি করে এবং ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করে।

অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে আবু সাইদ হাওলাদার আব্বাসকে পাওয়া যায়নি। তবে সেখানে যোগীপল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিট্টুসহ স্থানীয় কয়েকজনকে দেখা যায়। পরে মুঠোফোনে আবু সাইদ হাওলাদার আব্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে এনসিপির পক্ষ থেকে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। বহিরাগত লোকজন এনে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযুৃক্ত আবু সাইদ হাওলাদার আব্বাস বলেন, সংশ্লিষ্ট জমিতে তার কোনো মালিকানা নেই। ফলে ওই জমিতে যাওয়ার বা দখলের চেষ্টা করার প্রশ্নই আসে না।

অন্যদিকে সাজিদুল ইসলাম বাপ্পি বলেন, ‘ফুলবাড়িগেট ও কুয়ে সংলগ্ন আমাদের জমিটির দলিলে চৌহদ্দিসহ বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। আমরা দলিল অনুযায়ী আমাদের নির্ধারিত সীমানার মধ্যেই কাজ করছি। কারও কোনো আপত্তি থাকলে তিনি আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন। কিন্তু কোনো কাগজপত্র ছাড়াই অন্যায়ভাবে আমাদের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।’

ঘটনাস্থলে বহিরাগত লোকজন আনার অভিযোগও অস্বীকার করেন বাপ্পি। তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে বহিরাগত হিসেবে এনে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চাই না। বরং আমাদের বৈধ জমিতে শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করতে চাই। আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে যার যার দাবি রয়েছে, তা আইনগত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা উচিত।’

এ বিষয়ে খানজাহান আলী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মতিয়ার রহমান বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের কারণে ১৫৪ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে সতর্কীকরণ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আবু সাইদ হাওলাদার আব্বাস থানার ওসিকে ফোন করেছিলেন এবং ঘটনাটির সঙ্গে তার যোগসূত্র থাকার বিষয়টি পুলিশ নিশ্চিত করেছে।