০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৩৫

সালিশের রায় না মানায় একঘরে ২০ সদস্যের পরিবার

একঘরে করে রাখা পরিবারের কয়েকজন সদস্য   © টিডিসি

জমি-সংক্রান্ত বিরোধ এবং সালিশের রায় প্রত্যাখানের জেরে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে একটি পরিবারের ওপর সামাজিক বয়কট ও চরম আর্থিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বরের বিরুদ্ধে। প্রায় ২০ দিন ধরে উপজেলার হিলচিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর বেলভিডা দক্ষিণ সাতুঢা গ্রামের মৃত ভেলু মিয়ার দুই ছেলে মো. হবি মিয়া ও মো. রফিক মিয়ার ২০ সদস্যের পরিবারটি একঘরে অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

‎রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা গেছে, ভুক্তভোগীদের বয়কটের পাশাপাশি স্থানীয় মাতব্বররা আরও ঘোষণা দিয়েছেন যে যদি গ্রামের কেউ তাদের কোনো কাজের বা উপার্জনের সুযোগ করে দেন কিংবা সামাজিক সম্পর্ক রাখেন, তবে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে।

‎হবি ও রফিক মিয়ার পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী সেলিম ও শাহিনের প্রায় দেড় শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। প্রতিপক্ষ সেলিম ও শাহিনের দাবি, তারা আগেই টাকা দিয়ে ওই জমি কিনেছেন। তবে হবি ও রফিকের দাবি, জমিটি তারা কখনো বিক্রি করেননি এবং কোনো টাকাও নেননি।

‎এ বিরোধ মেটাতে স্থানীয় মাতব্বররা সালিশে বসেন। সালিশকারীদের সিদ্ধান্ত ছিল যে, সেলিম ও শাহিন অতিরিক্ত দেড় লাখ টাকা হবি ও রফিককে দেবেন এবং তারা জমিটি ছেড়ে দেবেন। কিন্তু ভুক্তভোগী পরিবার এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে অস্বীকার করে।

‎রায় না মানার খেসারত হিসেবে স্থানীয় মাতব্বর অধু মিয়া, আবিরাজ মিয়া, কুদ্দুস, মন্নান, রঙ্গু মিয়া এবং হিলচিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রিপন মিয়াসহ কয়েকজন ওই পরিবারকে একঘরে করার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

‎ভুক্তভোগী হবি মিয়ার একটি ধান ভাঙানোর রাইস মিল রয়েছে। তিনি জানান, সেখানে কেউ ধান-চাল ভাঙাতে এলে ১০ হাজার টাকা জরিমানার হুমকি দেওয়া হয়েছে, যার ফলে তার মিলে এখন কোনো গ্রাহক আসছে না।

আরও পড়ুন: আগামীতে বিচারকদের মতো শিক্ষকদেরও পৃথক পে-স্কেল, ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রীর

‎হবি মিয়ার ভাই রফিক মিয়া পেশায় একজন অটোরিকশাচালক। তিনি অভিযোগ করেন, তার রিকশায় কোনো যাত্রী উঠলে বা কেউ তাকে চালক হিসেবে কাজে নিলে উভয় পক্ষকে ১০ হাজার টাকা জরিমানার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে তার আয়-রোজগার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে।

‎ এছাড়া সালিশকারীদের আদেশে প্রতিবেশী দিলোয়ার হোসেন হবি মিয়ার পরিবারের জমিয়ে রাখা গরুর খড় ভেঙে ফেলেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও দিলোয়ারের দাবি, জায়গাটি তার এবং সালিশকারীদের অনুমতি নিয়েই তিনি এটি করেছেন। অন্যদিকে হবি মিয়ার মতে, জায়গাটি সরকারি রেকর্ডভুক্ত রাস্তা এবং তা তার নিজস্ব জমির অংশ।

‎সালিশকারী ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রিপন মিয়া একঘরে করে রাখার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সালিশে বারবার বসার পরও রায় না মানায় তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনার বিষয়ে অপর পক্ষ সেলিম ও শাহিনের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।

‎এ বিষয়ে হিলচিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মাজফারুল ইসলাম নাহিদ জানান, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে আগে জানতেন না, তবে বিষয়টি দুঃখজনক এবং খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎বাজিতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম শহিদুল্লাহ এই প্রতিবেদককে বলেন, এ বিষয়ে কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ তারা পাননি। তবে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।