স্ত্রীর সামনেই নৌকা থেকে সাগরে পড়ে যাওয়া শামীমের মরদেহ ১৮ ঘণ্টা পর উদ্ধার
স্ত্রীর সামনেই নৌকায় ওঠার সময় পা পিছলে সাগরে পড়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন ভোলার মো. শামীম (৩০)। প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে কক্সবাজারের পেকুয়ার মগনামা জেটিঘাট-সংলগ্ন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে চট্টগ্রামের ডুবুরি দল। প্রথমবারের মতো স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার আনন্দযাত্রাই শেষ হলো তার মর্মান্তিক মৃত্যুতে।
নিহত শামীম ভোলার ইলিশিয়া ঘাট এলাকার মুসলেম উদ্দিনের ছেলে। তিনি কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরুং মগলাল পাড়ার শাহ আলমের মেয়ের জামাতা। চট্টগ্রামের একটি পোশাক কারখানায় চাকরির সুবাদে কুতুবদিয়ার করিমা বেগমের সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা বিয়ে করেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্ত্রী করিমা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমবারের মতো শ্বশুরবাড়ি কুতুবদিয়ায় যাচ্ছিলেন শামীম। ভোলা থেকে যাত্রা করে পেকুয়ার মগনামা জেটিঘাটে পৌঁছান তারা। সেখান থেকে ডেনিসবোটে ওঠার প্রস্তুতিকালে হঠাৎ পা পিছলে সাগরে পড়ে যান শামীম।
প্রত্যক্ষদর্শীদের চোখের সামনেই প্রবল স্রোতে মুহূর্তের মধ্যে পানিতে তলিয়ে যান তিনি। পরে খবর পেয়ে পেকুয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালিয়েও তার সন্ধান না মেলায় পরে চট্টগ্রাম থেকে ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়।
শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম ইউনিটের বিশেষ ডুবুরি দল মগনামা ঘাটে পৌঁছে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়। রাতভর তল্লাশি চালিয়েও নিখোঁজ শামীমের সন্ধান মেলেনি।
অবশেষে রবিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে দীর্ঘ প্রায় ১৮ ঘণ্টার অভিযানের পর জেটিঘাট এলাকার পানির নিচ থেকে শামীমের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন ডুবুরিরা।
চট্টগ্রাম ডুবুরি ইউনিটের সাব-অফিসার মো. জসিম উদ্দিন জানান, নিখোঁজের পর থেকেই আশপাশের এলাকায় কয়েক দফায় তল্লাশি চালানো হয়। পরে রবিবার সকালে শামীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।