নৌকা থেকে পানিতে পড়া ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল বাবার
গাইবান্ধার সাঘাটায় নৌকা থেকে পড়ে যাওয়া নিজের ছেলেকে উদ্ধার করতে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হওয়া এক পল্লী বিদ্যুৎকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। স্থানীয়রা আগেই শিশু পুত্রকে জীবিত উদ্ধার করলেও বাবাকে বাঁচাতে পারেনি সে সময়। তীব্র স্রোত আর গভীর পানির খাদে আটকে পড়ে তিনি হারিয়েছেন জীবন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের তেলিয়ান বিলে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ময়নুল ইসলাম (৩২) ওই ইউনিয়নের সাতকালপানি গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি পল্লী বিদ্যুতের ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর উদ্ধার হওয়া ছেলে মাহিদের বয়স ১০ বছর।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৩টার দিকে ছেলে মাহিদকে নিয়ে নৌকায় করে তেলিয়ান বিলে মাছ ধরতে যান ময়নুল। সেখানে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর অসাবধানতাবশত মাহিদ নৌকা থেকে পানিতে পড়ে যায়। ছেলেকে বাঁচাতে কোনো কিছু না ভেবেই সঙ্গে সঙ্গে পানিতে ঝাঁপ দেন বাবা। কিন্তু ছেলেকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে একপর্যায়ে তিনি নিজেই বিলের গভীর পানিতে তলিয়ে যান।
বিষয়টি দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে প্রথমে মাহিদকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে ময়নুলের কোনো সন্ধান না পেয়ে তারা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। খবর পেয়ে সাঘাটা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ৭ সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার চেষ্টায় বিলের একটি গভীর খাদ থেকে ময়নুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় রংপুর থেকে ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হলেও তারা পৌঁছানোর আগেই উদ্ধারকাজ শেষ হয়।
এ বিষয়ে সাঘাটা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার সাদেকুল ইসলাম জানান, স্থানীয়রা ইতিমধ্যে ছেলেটিকে উদ্ধার করেছিলেন। আমরা নিখোঁজ বাবার সন্ধানে অভিযান চালাই। দীর্ঘ চেষ্টার পর খাদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শিশু মাহিদ এখন সুস্থ আছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এক সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে বাবার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকাহত স্বজন ও প্রতিবেশীরা।