দাওয়াতের কথা বলে শিক্ষককে ডেকে নিয়ে পেটানোর অভিযোগ, মামলার আবেদন
কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডীতে দাওয়াতের কথা বলে তাহমিদুল হাসান মুরাদ (২২) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে ডেকে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে মারধর এবং গলা টিপে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২-৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী তাহমিদুল হাসান মুরাদের মা রশিদা আক্তার বাদী হয়ে গত ৪ সেপ্টেম্বর থানায় এজাহারটি দায়ের করেন।
এজাহারে অভিযুক্ত হিসেবে শাহজালাল, দিদার ও নুরুল হাকিমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা চৌফলদন্ডীর ইসলামিয়া তা’লিমুল কোরআন (বালিকা) দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। পাশাপাশি আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, তাহমিদুল হাসান মুরাদ (২২) কক্সবাজার সরকারি বি.বি.এস (সম্মান) শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। লেখাপড়ার পাশাপাশি তিনি চৌফলদন্ডীর ইসলামিয়া তা’লিমুল কোরআন (বালিকা) দাখিল মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। অভিযুক্তরাও একই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, মাদ্রাসার ক্লাস রুটিন ও পাঠদান নিয়ে তাহমিদুল হাসান মুরাদের সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষকদের মতবিরোধ ও বাকবিতণ্ডা হয়। পরে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মুরাদকে নবম ও দশম শ্রেণির ইংরেজি বিষয়ে পাঠদানের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছিল বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে অভিযুক্ত শাহজালাল দাওয়াতের কথা বলে তাহমিদুল হাসান মুরাদকে চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর পাড়ায় তার শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে খাওয়া-দাওয়া শেষে মুরাদকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন বাদী।
পরে অপর অভিযুক্তদের ইন্ধনে শাহজালাল লোহার রড দিয়ে তাহমিদুল হাসান মুরাদকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তার পিঠে রক্তাক্ত জখম হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
এ সময় অজ্ঞাতনামা কয়েকজন লাঠি দিয়ে মুরাদকে মারধর করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা-ফুলা ও অভ্যন্তরীণ জখম হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
একপর্যায়ে তাহমিদুল হাসান মুরাদের গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তার মা রশিদা আক্তার।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মারধরের পর তাহমিদুল হাসান মুরাদকে একটি মিশুক গাড়িতে করে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। পরে স্বজনরা তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান। এজাহারের সঙ্গে চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে বলে বাদী উল্লেখ করেছেন।
তাহমিদুল হাসান মুরাদের মা রশিদা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার বিষয়ে থানায় মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে পুনরায় মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, ছেলের চিকিৎসা এবং স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা শেষে গত ৪ সেপ্টেম্বর থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শাহজালালের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। মুরাদ অনেক ভালো ছেলে। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপকে কেন্দ্র করে কয়েকটি কথাকাটাকাটি হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন ঘটনার সময় আমি মাদ্রাসায় ছিলাম।
ঘটনার বিষয়ে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক নুরুল হাকিম বলেন, ঘটনার সময় আমি মাদ্রাসায় ছিলাম। মুরাদের পরীক্ষা ছিল, এ কারণে সে ছুটি নিয়েছিল। ঘটনার বিষয়ে আমি আর বেশি কিছু জানি না।
ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা কক্সবাজার সদর মডেল থানার এসআই আবু তাহের বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে, আসলে কী ঘটেছিল।
তিনি জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করা হবে। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।