বন্দিজীবনের মাঝেই মাতৃত্বের স্বাদ, অ্যাম্বুলেন্সে সন্তান জন্ম দিলেন নারী কয়েদি
হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক নারী হাজতি। ঝিনাইদহ থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে যশোরের চুড়ামনকাটি এলাকায় প্রসববেদনা উঠলে অ্যাম্বুলেন্সেই সন্তান প্রসব করেন তিনি। বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনেই সুস্থ আছেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, বৃষ্টি খাতুনকে (১৯) ঝিনাইদহ থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। পথে তার প্রসববেদনা শুরু হয়। রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি চুড়ামনকাটি এলাকায় পৌঁছালে তিনি অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই সন্তানের জন্ম দেন।
ঘটনার পরপরই যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ মা ও নবজাতকের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করে। নবজাতকের জন্য জামাকাপড়, মশারি, বিছানাপত্র, তোয়ালে, ন্যাপকিন, ডায়াপার, অলিভ অয়েলসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী দেওয়া হয়। এ ছাড়া সবার মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয় এবং মাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ বলেন, কারা মহাপরিদর্শকের (আইজি প্রিজনস) নির্দেশনায় এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা মা ও নবজাতকের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তার ব্যবস্থা করেছি। বর্তমানে তারা দুজনেই সুস্থ আছেন।’
জেলার আরও জানান, বৃষ্টি খাতুন ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলার আসামি। তিনি হরিণাকুণ্ডু উপজেলার দৌলতপুর পালপাড়া এলাকার রবিউল ইসলামের মেয়ে।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি দৌলতপুর গ্রামে ভ্যানচালক জসিম উদ্দিনকে হত্যার ঘটনায় বৃষ্টি খাতুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নিহত জসিম উদ্দিনের বাবা মুক্তার হোসেন বাদী হয়ে হরিণাকুণ্ডু থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেছিলেন।