উপজেলার বাজারে ২৫ কোটি টাকা খাস কালেকশন, রাজস্ব জমার তথ্য নেই ইউএনও-এসিল্যান্ডের কাছে!
কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া বাজারে প্রায় দেড় বছর ধরে চলছে খাস কালেকশন। অথচ প্রায় ২৫ কোটি টাকা ইজারার ডাক ওঠা এই বাজারে গত ১৮ মাসে কত টাকা আদায় হয়েছে এবং সরকারি কোষাগারে কত টাকা জমা পড়েছে তার সুনির্দিষ্ট হিসাব নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রতি বাজারে ৭০ হাজার থেকে এক লাখ টাকারও বেশি টোল আদায় হতে পারে। সপ্তাহে দুই দিন বাজার বসায় বছরে আদায়ের পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু আদায়কৃত অর্থের বিপরীতে সরকারি কোষাগারে জমার হিসাব প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে। গর্জনিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, হিসাব ইউএনও বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানতে হবে।
রামু উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্বরূপ মুহুরী বলেন, ‘গর্জনিয়া বাজারের খাস কালেকশন ইউএনও দেখভাল করেন।’
অন্যদিকে ইউএনও মো. জিল্লুর রহমানের দাবি, খাস কালেকশন এসিল্যান্ড অফিসের মাধ্যমে হয় এবং হিসাব তার কাছে থাকার কথা নয়।
এবিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বাজারে সরকারি রাজস্ব আদায় হচ্ছে, কিন্তু সেই টাকার হিসাব জানেন না ইউএনও, এসিল্যান্ড বা তহসিল অফিসের কেউই তাহলে হিসাব রাখছে কে?
স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী ফজু বলেন, ‘প্রতি বাজারে এক লাখ টাকা করে আদায় হলে বছরে প্রায় ১ কোটি ৪ লাখ টাকা এবং দেড় বছরে প্রায় দেড় কোটি টাকা আদায় হতে পারে। তবে সরকারি কোষাগারে কত টাকা জমা হয়েছে, সেটি তারা জানেন না।’
দোকানদার আব্দুল্লাহ বলেন, ‘বর্তমানে প্রতি বাজারে এক লাখ টাকার কিছু বেশি টোল আদায় হতে পারে। আগে গরুর বাজার চালু থাকায় আদায়ের পরিমাণ তিন লাখ টাকারও বেশি হতো বলে দাবি করেন তিনি।’
ব্যবসায়ী নেতা কবির আহমদ বলেন, ‘গরুর বাজার বন্ধ থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। গরুর বাজার চালুর জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।’
এদিকে সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত ৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন থেকে হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ১৯১৩/২০২২-এর রায়ের আলোকে গর্জনিয়া বাজার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে ইউএনও জিল্লুর রহমান বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের চিঠির বিষয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ বিষয়ে আরও মামলা রয়েছে বলে জানান তিনি।’
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, গর্জনিয়া বাজারের খাস কালেকশনের দেড় বছরের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা জরুরি। একই সঙ্গে বাজারভিত্তিক আদায়ের রেজিস্টার, রসিদ বই, ক্যাশবুক, সরকারি কোষাগারে জমার ট্রেজারি চালান এবং সংশ্লিষ্ট অনুমোদন যাচাই করে দেখা প্রয়োজন। ২৫ কোটি টাকার ইজারা ডাক ওঠা বাজারে দেড় বছরে খাস কালেকশনে মোট কত টাকা উঠেছে? কত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে? আর আদায় ও জমার মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকলে সেই টাকা গেল কোথায়? এসব বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি।