০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৮

কৃষিজমি দখল করে সিসা কারখানা, বিষাক্ত বর্জ্যে হুমকিতে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ

কৃষিজমি দখল করে সিসা কারখানা, বিষাক্ত বর্জ্যে হুমকিতে ফসল ও পরিবেশ  © সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় কৃষিজমিতে পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরির দুটি অবৈধ কারখানা গড়ে  উঠেছে। কারখানাগুলো থেকে নির্গত ধোঁয়া ও রাসায়নিক পদার্থে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ও কৃষিজমি ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের নিঘোরকান্দা এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসংলগ্ন বৈলর ইউনিয়নের নামাপাড়া এলাকায় এসব কারখানা গড়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা উৎপাদন করা হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার  (৩ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা গেছে, নিঘোরকান্দা ইটভাটার পাশে কৃষিজমি ভাড়া নিয়ে একটি কারখানা পরিচালনা করা হচ্ছে। সেখানে পুরোনো ব্যাটারি সংগ্রহ করে তা ভেঙে সিসা ও অন্যান্য উপাদান আলাদা করছেন শ্রমিকেরা। 

বৈলর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডেও একইভাবে পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরির কাজ চলছে। কারখানাগুলোতে প্রায় অর্ধশত শ্রমিক কাজ করেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনে ব্যাটারি ভেঙে অ্যাসিড, সিসা ও প্লাস্টিক আলাদা করা হয়। পরে রাতে মাটির গর্তে এসব উপাদান পুড়িয়ে সিসা তৈরি করা হয়। এ সময় এলাকায় তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। কারখানার বর্জ্য ও ধোঁয়ার কারণে আশপাশের ফসল ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।

স্থানীয় বাসিন্দা নাহিদ জানান, দিনে ব্যাটারির অ্যাসিড মিশ্রিত সিসা ও প্লাস্টিক আলাদা করা হয়। শুনেছি, রাতে সেগুলো পোড়ানো হয়। এ সময় বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয়। এতে জমির ধানসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ছাইফুল ইসলাম ফরাজী বলেন, কয়েক মাস আগে কৃষিজমিতে পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরির কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে। দিনে পুরোনো ব্যাটারি সংগ্রহ করে সারা রাত সেগুলো পোড়ানো হয়। অ্যাসিড ও ব্যাটারি পোড়ানোর কারণে এলাকায় ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। তিনি কয়েকবার তাঁদের নিষেধ করেছেন বলেও জানান।

কারখানার ম্যানেজার আবুল কালাম বলেন, ‘এটি বৈধ নয়। অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের চেষ্টা করছি। এখনো অনুমোদন পাইনি। তবে এতে কোনো ক্ষতি হয় না। এলাকার সবাইকে ম্যানেজ করেই এই ব্যবসা করতে হয়।’

বৈলর ইউনিয়নের কারখানার মালিক বিল্লাল বলেন, ‘ভাই, এটা নিয়ে নিউজ করতে হবে না।’ 

বৈধ কাগজপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা তো কৃষিজমিতে সরকার অনুমোদন দেয় না।’ পরে এ বিষয়ে সন্ধ্যায় কথা বলার প্রস্তাব দেন তিনি।

হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক শামসুজ্জামান মাসুম বলেন, সিসা কারখানার বিষয়টি তাঁদের জানা ছিল না। কারখানাটি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কোনো ট্রেড লাইসেন্স নেয়নি। বিষয়টি নিয়ে এলাকার কৃষকেরা ক্ষুব্ধ বলেও জানান তিনি।

ত্রিশাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাম্মিম জাহান বলেন, কৃষিজমিতে সিসা ও অ্যাসিড পোড়ানো বা ফেলার ফলে ফসলের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয়। এতে মাটির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদিত ফসল মানুষের খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি অবগত হয়েছি। ওই অবৈধ কারখানা বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পরিবেশ অধিদপ্তর, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক শেখ মো. নাজমুল হুদা বলেন, সিসা তৈরির কারখানা দুটি অবৈধ। তাদের কোনো ছাড়পত্র নেই। কারখানা দুটি বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।