পদ্মা সেতুর ঢালে বাস দুর্ঘটনা: ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত?
মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের ঢালে যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনায় সেতুর পূর্ব পাশের প্রায় ৫০ মিটার রেলিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতে ছয় থেকে সাত দিন সময় লাগতে পারে। এতে ব্যয় হতে পারে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা।
গত সোমবার (৩১ আগস্ট, ২০২৬) বেলা সোয়া একটার দিকে নিউ গ্রীন লাইন এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী বাস মাগুরা থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। পদ্মা সেতু পার হয়ে মাওয়া প্রান্তের ঢাল দিয়ে নামার সময় চালক বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারান।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বেলা ১টা ১৫ মিনিটের দিকে বাসটি ঢালে ওঠে। এ সময় অন্য একটি বাসকে অতিক্রমের চেষ্টা করছিল সেটি। অতিরিক্ত গতির কারণে একপর্যায়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে ডান দিকে এবং পরে বাঁ দিকে যেতে থাকে। পরে বাসটি ঢালের ওপর লম্বালম্বিভাবে পিছলে গিয়ে সেতুর দুই পাশের রেলিংয়ে সজোরে ধাক্কা দেয়।
এতে রেলিংয়ের বেশ কিছু অংশ ভেঙে যায় এবং পরে বাসটি উল্টে যায়। দুর্ঘটনায় বাসটির সামনের অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আটজন যাত্রী আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর বেলা ১টা ৩৭ মিনিটে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনে পৌঁছায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসের ভেতরে থাকা আটজন আহত যাত্রীকে উদ্ধার করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে তাঁদের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
দুর্ঘটনার পর প্রায় ৮ থেকে ১০ মিনিট পদ্মা সেতুর ওপর যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে এক পাশ দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়। ফায়ার সার্ভিস, সেতু কর্তৃপক্ষের টহল গাড়ি ও রেকারের সহায়তায় বেলা আড়াইটার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সরিয়ে নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সেতু-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি বর্তমানে পদ্মা উত্তর থানায় রয়েছে। পদ্মা সেতুর নিরাপত্তায় গাড়িসহ দুটি টহল দল দায়িত্ব পালন করে। প্রতিটি দলে তিনজন করে সদস্য রয়েছেন। তারা সেতুতে নজরদারির পাশাপাশি কোনো গাড়ি বা যাত্রীর সমস্যায় প্রাথমিক সহায়তা ও চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।
বাসটি থানায় হস্তান্তরের পর আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে বলে জানান নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ।
আরও দেখুন: বঙ্গবীর ওসমানী: বাঙালির মুক্তির লড়াইয়ের সেই সিপাহসালার
পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সোমবার দুপুরে দুর্ঘটনার সময় বাসটি সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম দুই পাশের রেলিংয়ে ধাক্কা দেয়। তবে পশ্চিম পাশের রেলিংয়ে তেমন ক্ষতি হয়নি। পূর্ব পাশের রেলিংয়ের ব্যারিয়ারের ওপরের প্রায় ৫০ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেতুর সড়কেও কিছু দাগ পড়েছে, তবে তা গুরুতর নয়।’
তিনি আরও জানান, পুরো পদ্মা সেতুতে প্রায় ৪০০ মিটার পরপর ১৬টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ক্যামেরা রয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে সেতু পর্যবেক্ষণ করা হয়। সেতুর ওপর যানবাহনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন দূরত্বে বিলবোর্ডও স্থাপন করা হয়েছে।
তবে অনেক চালক নির্ধারিত গতিসীমা মানছেন না। নির্বাহী প্রকৌশলীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় সেতুর ওপর থাকা যানবাহনগুলোর গতি ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত ছিল।
দুর্ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও সেতুর রেলিং মেরামতে কয়েক দিন সময় লাগবে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, এ কাজে ব্যয় হবে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা।