যে আইফোনের জন্য সন্তানকে ১ লাখ টাকায় বিক্রি করেন বাবা
আইফোনের বিলাসী শখ পূরণের অন্ধ মোহে নিজের দেড় বছরের শিশুকে ১ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন এক বাবা। পরে সেই টাকা দিয়ে আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্স কিনেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামে।
অভিযুক্ত ওই বাবার নাম মো. মারুফ মুন্সি। তিনি ওই গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে এবং পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। এ ঘটনার পর শিশুটিকে উদ্ধারে মাঠে নেমেছে পুলিশ। আটক করা হয় শিশুটির বাবাকে।
শিশুটির বাবা মারুফ জানায়, ‘তিনি আইফোন-১৩ প্রো-ম্যাক্স মডেলের ব্যবহৃত ফোনটি একই এলাকার ইমরান নামের এক যুবকের কাছ থেকে ৫৫ হাজার টাকায় কেনেছেন। ফোন কেনার পর অবশিষ্ট ৪৫ হাজার টাকা তিনি নিজের দেনা পরিশোধসহ অন্যান্য কাজে খরচ করে ফেলেছেন।’
এদিকে সন্তানকে বিক্রি করে আইফোন কেনার মতো চরম অনৈতিক কাজ করলেও তার মনে বিন্দুমাত্র অনুতাপ দেখা যায়নি। বরং নতুন আইফোন হাতে নিয়ে প্রকাশ্যে স্বাচ্ছন্দ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় তাকে।
এর আগে, শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে মারুফ তার মা মাহফুজা বেগমের কাছ থেকে ছেলে মুসাকে ‘ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার’ কথা বলে বের হন। সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও তারা না ফেরায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পরিবারের লোকজন জানতে পারেন মারুফ তার ছেলে মুসাকে আলীপুর ইউনিয়নের রামনাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে ১ লাখ টাকায় তিনি মুসাকে বিক্রি করে দিয়েছেন। বিক্রির টাকা দিয়ে তিনি একটি আইফোন কিনেছেন।
ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। খবর পেয়ে অতি দ্রুত অভিযানে নামে পুলিশ। এরপর গতকাল রবিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় অভিযুক্ত মারুফ মুন্সিকে আটক করে পুলিশ। পরে রাত ১০টার দিকে শিশু মুসাকে উদ্ধার করে তার দাদা-দাদির জিম্মায় দেয় পুলিশ।
এ ঘটনার পর শিশুটির ভবিষ্যৎ সুরক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে এসেছে দশমিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মে. মাহমুদ হাসান। শিশু মুসার নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া সহ প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।