আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৩০
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আবার দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ধুলজোড়া ব্রিজ এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া মান্নান মাতুব্বর এবং পার্শ্ববর্তী সালথা উপজেলার খাড়দিয়া গ্রামের বিএনপি নেতা মুশফিক বিল্লাহ জিহাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৯ আগস্ট) বাজার করতে গিয়ে জিহাদপন্থী সোলায়মান মাতুব্বর হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত সোলায়মান মাতুব্বরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে দেশি অস্ত্র নিয়ে তার ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে জিহাদও রক্তাক্ত জখম হন। হামলায় মান্নান মাতুব্বর ও নটখোলা গ্রামের তারা মিয়ার নেতৃত্বে তার ছেলে মাসুদ রানা ও মজনু মাতুব্বর, স্থানীয় যুবলীগ নেতা পান্নু মাতুব্বর, কুদ্দুস মাতুব্বরের ছেলে ফারুক ও মারুফ মাতুব্বর, ইয়াসিনসহ ১০ থেকে ১২ জন জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ওই ঘটনার জের ধরে রোববার বিকেলে মান্নান মাতুব্বরের লোকজন পরমেশ্বরদী গ্রামের ছরোয়ার খাঁর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় বাড়িতে থাকা পাট ও পেঁয়াজ লুট করে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। পরে খাড়দিয়া গ্রামের হুমায়ন খাঁ, রফিক মোল্যা ও ইলিয়াস কাজীর নেতৃত্বে থাকা লোকজনের সঙ্গে মান্নান মাতুব্বরের পক্ষের লোকজনের ধুলজোড়া ব্রিজ এলাকায় সংঘর্ষ বাধে।
প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলা ওই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে পরমেশ্বরদী গ্রামের বাচ্চু মোল্যার ছেলে কবির মোল্যা, হাশেম মোল্যার ছেলে কামরুল মোল্যা ও মনসুর মোল্যার ছেলে লোকমান মোল্যাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত অন্যদের বোয়ালমারীসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইজাজ আহমেদ শাওন বলেন, রবিবার সন্ধ্যার পর সংঘর্ষে আহত বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষের বিষয়ে দুই পক্ষের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরও বন্ধ পাওয়া গেছে।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।