২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৬:০০

খাগড়াছড়িতে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

প্রতীকী ছবি  © সংগৃহীত

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার দুর্গম নরেন্দ্র কার্বারীপাড়া এলাকায় নিকা ত্রিপুরা (৩০) নামের এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরের দিকে নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে মহালছড়ি থানা-পুলিশ।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, নিকা ত্রিপুরাকে ধর্ষণের পর গলা চেপে হত্যা করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।

নিহতের আট বছর বয়সী মেয়ে শিখা ত্রিপুরা জানায়, শনিবার সকালে পাশের গ্রামে থাকা নানির বাড়ি থেকে সে নিজের বাড়িতে আসে। এ সময় মাকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে ভয় পেয়ে স্কুলে চলে যায়। পরে জানতে পারে, তার মা মারা গেছেন।

স্থানীয় কার্বারী থৈঅংগ্য মারমা জানান, কিছুদিন আগে স্থানীয় এক যুবক ও মোটরসাইকেলচালকের সঙ্গে নিকা ত্রিপুরার কথিত পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে নিকা স্থানীয় নিরঞ্জন কার্বারীর কাছে বিচার দেন। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হলেও তাদের মধ্যে আবারও যোগাযোগ ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

কার্বারী থৈঅংগ্য মারমার আরও দাবি, শনিবার সকালে নিকা ত্রিপুরার মরদেহের পাশে পড়ে থাকা একটি মোবাইল ফোন তিনি নিয়ে যান। পরে ওই ফোনে থাকা কলের নম্বরগুলো মুছে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে স্থানীয়রা তাকে প্রশ্ন করলে তিনি সেখান থেকে চলে যান। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্ত করে নিশ্চিত করেনি পুলিশ।

আরও পড়ুন: চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন ঢাকায়, সংসদের সামনে ছিনতাইকারীর হেঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে শিক্ষিকার মৃত্যু

এদিকে স্থানীয় গ্রামবাসীদের দাবি, নিকা ত্রিপুরার ঘরে প্রায় চার ভরি স্বর্ণ ও সাত লাখ টাকা ছিল। তার মৃত্যুর পর এসব স্বর্ণ ও টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। তবে নিহতের ঘরে স্বর্ণ ও টাকা থাকার বিষয়টিও পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।

ঘটনার খবর পেয়ে মহালছড়ি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়।

খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই মহালছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই নিকা ত্রিপুরার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। একই সঙ্গে স্বজনদের ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ, স্থানীয়দের কথিত পরকীয়ার দাবি এবং স্বর্ণ ও টাকা নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ—সবকিছুই তদন্তের আওতায় রয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।