জাতীয় ৪ নেতার মুরাল অপসারণ, ইউএনও দায় চাপালেন মৃত মুক্তিযোদ্ধার ওপর
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন জগদীশপুরের মুক্তিযোদ্ধা চত্বর থেকে সম্প্রতি আলোচিত জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানের মুরাল অপসারণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।
তবে মুরাল অপসারণের দায় সম্প্রতি মারা যাওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের ওপর দিয়েছেন মাধবপুরের সদ্য সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বর্তমানে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ইউএনও জাহিদ বিন কাসেম। গোলাম মোস্তফা রফিক হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও জাহিদ বিন কাসেম বলেন, ‘সম্প্রতি মারা যাওয়া হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা রফিকের দায়িত্বকালে মুরালটি অপসারণ করা হয়েছিল। তিনি বিষয়টি জানতেন না বলেও দাবি করেন।’
উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মুরাল অপসারণের ঘটনা জানার পর তিনি কোনো ব্যবস্থা নিয়েছিলেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি নেতিবাচক উত্তর দেন। একইভাবে এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কোনো রেজুলেশন, সভা কিংবা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না এ প্রশ্নেরও কোনো ইতিবাচক উত্তর পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি জাতীয় চার নেতার অন্যতম তাজ উদ্দিনের ছেলে ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোহেল তাজ মুরাল অপসারণের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে সরকারের কাছে বিচার দাবি করেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।
মাধবপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও স্থানীয় ভবানীপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এভাবে মুরালগুলো সরানো একটি প্রতিহিংসার কাজ হয়েছে। আমরা শুরু থেকেই এর প্রতিবাদ করে এসেছি। আমরা চাই মুরালগুলো পুনঃস্থাপন করা হোক।’
মাধবপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ অলিদ মিয়া বলেন, ‘এ ধরনের কাজ সম্পূর্ণ বেআইনি ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের পরিপন্থী। এর দায় উপজেলা প্রশাসনকে নিতে হবে। তারা এ কাজটি করেছে কি না, আর না করলে অনুমতি ছাড়া মুরাল অপসারণের ঘটনায় তারা কী ব্যবস্থা নিয়েছে সেটিও প্রশ্ন।’
স্থানীয় একটি মহলের দাবি, মুক্তিযুদ্ধে জাতীয় চার নেতা সরাসরি সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি। তাদের মতে, এ ধরনের মুরালে এমএজি ওসমানী, মেজর জেনারেল সি আর দত্ত ও কমান্ডার নুরুজ্জামানের মতো মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মুরাল থাকা প্রয়োজন ছিল। তবে এ ধরনের বক্তব্যে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সমর্থন পাওয়া যায়নি।
আরও দেখুন: কাজ ছাড়াই ৬০ লাখ টাকার বিল উত্তোলনের অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদু শহীদ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে আমাদের ধারণ করতে হবে, সংরক্ষণ করতে হবে। কেউ যদি মনগড়াভাবে এমন কাজ করে, সেটি জাতি সহ্য করবে না।’
এদিকে মাধবপুরের ইউএনও মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘মাধবপুর উপজেলা প্রশাসনের কোনো সিদ্ধান্তে ওই মুরাল অপসারণ করা হয়নি। নতুন মুরাল তৈরির ক্ষেত্রেও উপজেলা প্রশাসনের কোনো সিদ্ধান্ত নেই।’
মাধবপুর মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরাশ উদ্দিন বলেন, ‘এমন একটি স্পর্শকাতর জাতীয় স্থাপনা সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত ছাড়া একতরফাভাবে অপসারণ করা ঠিক হয়নি। সম্ভব হলে এটি পুনরায় স্থাপন করা প্রয়োজন।’
তবে মুরাল অপসারণের বিষয়ে তদন্ত, পুনর্নির্মাণ কিংবা সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।