২৮ আগস্ট ২০২৬, ২০:৫১

২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, উপজেলা বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে মামলা

২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, উপজেলা বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে মামলা  © সংগৃহীত

হবিগঞ্জের মাধবপুরে আমেরিকা প্রবাসীর পরিবারের বাড়ি নির্মাণকাজে বাধা, মারধর ও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল ইসলাম কামালের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর সিআর ৫২/২০২৬ (মাধবপুর)। 

আজ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে মামলার বাদী সানি আলম শ্রাবণ তার বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

মামলার বাদী উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের মালঞ্চপুর গ্রামের আমেরিকা প্রবাসী শাহিনুর রহমানের ছেলে সানি আলম শ্রাবণ।

মামলা ও বাদীপক্ষের সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ আগস্ট ধর্মঘর বাজারের দত্তপাড়া এলাকায় নিজেদের মালিকানাধীন জমিতে বাড়ি নির্মাণের কাজ চলাকালে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলাম কামালসহ অন্যান্য আসামিরা সেখানে গিয়ে নির্মাণকাজে বাধা দেন। এ সময় বাদীপক্ষকে মারধর করে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তাদের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, পরিবারের সদস্যরা আমেরিকা প্রবাসী হওয়ায় তাদের এই অবস্থার সুযোগ নিয়ে চাঁদা দাবি করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের দাবি, তারা বিষয়টি নিয়ে থানায় গেলে মামলা গ্রহণ করা হয়নি। পরে হবিগঞ্জের দ্রুত বিচার আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলমের আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে মাধবপুর থানার ওসিকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে আদালতকে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আদালত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

সানি আলম শ্রাবণ বলেন, আমরা আমাদের বৈধ মালিকানাধীন জমিতে বাড়ি নির্মাণ করছি। বিএনপির ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে লোকজন নিয়ে এসে আমাদের নির্মাণকাজে বাধা দেওয়া এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। ওই ঘটনার ভিডিও আমরা গোপনে ধারণ করেছি। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে এফআইআরের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা ন্যায়বিচার চাই।

তিনি আরও দাবি করেন, এর আগেও শামসুল ইসলাম কামালের বিরুদ্ধে ফুয়াদ হাসান সাকিবের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছিল, যার একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। এছাড়া ধর্মঘর এলাকার সোয়াবই গ্রামের ফারজানা আক্তার ইপশা নামে এক নারীর দায়ের করা হামলা ও মাছ চুরির মামলাও আদালতে চলমান রয়েছে।

অন্যদিকে, শামসুল ইসলাম কামালের মাদকবিরোধী বক্তব্যের একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই বক্তব্যে তাকে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলতে দেখা যায়।

বাদীর বাবা ও আমেরিকার নাগরিক শাহিনুর রহমান বলেন, আমি আমার ছেলে ও পরিবারের নিরাপত্তা চাই। যেকোনো সময় আমাদের ওপর হামলা হতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। প্রয়োজনে আমেরিকান দূতাবাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের কাছে নিরাপত্তা চাইব। আমরা দ্রুত ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তারা বলেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অপরাধের দায় বিএনপি নেবে না।

অভিযোগের বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল ইসলাম কামাল বলেন, আমি বিরোধপূর্ণ জায়গায় একটি সমাধানের জন্য গিয়েছিলাম। চাঁদা দাবির প্রশ্নই আসে না। একটি মহল বারবার আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছে। আমি আশাবাদী, নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, মামলাটি বর্তমানে আদালতের প্রক্রিয়াধীন। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।