‘সঠিক তথ্যের অভাব, অসচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিদেশে গিয়ে বিপদের মুখে পড়ছেন অভিবাসীরা’
সঠিক তথ্যের অভাব, অসচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া ও ভাষাজ্ঞানের ঘাটতির কারণে বিদেশে গিয়ে নানা ধরনের বিপদের মুখে পড়ছেন অভিবাসীরা। এই পরিস্থিতিতে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘নিরাপদ অভিবাসনে মিডিয়ার ভূমিকা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় বক্তারা এ আহ্বান জানান। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘প্রত্যাশী’ ও ‘স্ট্রেংদেন্ড অ্যান্ড ইনফরমেটিভ মাইগ্রেশন সিস্টেমস’ (সিমস) যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে। এতে চট্টগ্রামে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বিদেশে যাওয়ার আগে অভিবাসীদের নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান, চাকরির চুক্তিপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি গন্তব্য দেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও আইন-কানুন সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা থাকা জরুরি। অথচ পর্যাপ্ত তথ্য ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছাড়াই অনেকে বিদেশে পাড়ি জমান। ফলে কর্মস্থলে গিয়ে তারা প্রতারণা, আর্থিক ক্ষতি ও শারীরিক-মানসিক হয়রানির শিকার হন।
বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রবাস থেকে ফিরে আসার পরের পরিকল্পনাও রাখা জরুরি বলে মন্তব্য করেন বক্তারা। তারা বলেন, ফেরত আসার পর পুনর্বাসন ও নতুন করে আয়ের সুযোগ তৈরির আগাম পরিকল্পনা না থাকায় অনেক অভিবাসী দেশে ফিরে চরম সংকটে পড়েন।
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ বাংলাদেশি অভিবাসী হিসেবে অবস্থান করছেন। বিপুল এই জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গণমাধ্যম সবচেয়ে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রত্যাশীর নির্বাহী পরিচালক মনোয়ারা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, মূল আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক ও বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি।