বিয়ের প্রলোভনে শিক্ষিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকাকে ধর্ষণ এবং তার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষিকা গত মঙ্গলবার রাতে সাদুল্লাপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে চেয়ারম্যান রবিউল ইসলামের পাশাপাশি সালেহীন আকন্দ নামে আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী (৩৩) উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত। ভুক্তভোগী শিক্ষিকার অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হওয়ার সুবাদে তার সঙ্গে পরিচয় হয়। এরপর তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। চেয়ারম্যানের বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে একসময় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে রাজি হন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে চেয়ারম্যান তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাসী হয়ে ওই শিক্ষিকা চেয়ারম্যানকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় তিন লাখ টাকা দেন। এমনকি চেয়ারম্যানের নির্দেশে তিনি নিজের স্বামীকেও তালাক দিতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ করেছেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিয়ের বিষয়ে চেয়ারম্যান টালবাহানা শুরু করলে তিনি প্রতিবাদ জানান। তখন তাকে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানো এবং সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়। চরম পর্যায়ে গিয়ে তার ব্যক্তিগত কিছু ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পাদনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ওই শিক্ষিকা অভিযোগ করে বলেন, তিনি আর কোনোভাবেই চেয়ারম্যানের প্রতারণা ও নির্যাতন সহ্য করতে পারেননি। তাই তিনি সঠিক বিচারের আশায় আইনি পথে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যেই এই ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ আনা হয়েছে। নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।
চেয়ারম্যান আরও দাবি করেন, তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তাকে হয়রানি করার জন্য এই অভিযোগ রচনা করেছে। তবে তিনি এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনিভাবে লড়াই করার কথাও জানান। তার এমন বক্তব্য যদিও আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন।
গাইবান্ধা জজ কোর্টের বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রেজওয়ান সরকার অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভুক্তভোগী নারী একজন সহজ-সরল এবং বিশ্বাসী মানুষ। চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করেছেন। শুধু তাই নয়, শিক্ষিকার স্বামীকেও তালাক দিতে বাধ্য করেছেন তিনি। আইনজীবী আরও বলেন, আদালতে ন্যায় বিচার পাওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। আগামীদিনে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন হবে বলেও তিনি মনে করেন।
সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম হাবিবুর রহমান এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আদালতের নির্দেশে এ মামলার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। থানা পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত পরিচালনা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।