২৬ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৫৬

চাঁদপুরে খাসজমির ঘেরের মাছ বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ, ওসির বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি

হাইমচর উপজেলার ৪ নম্বর নীলকমল ইউনিয়নের বাহেরচরে মেঘনা নদীর পশ্চিমের এই খাসজমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ রয়েছে  © সংগৃহীত

চাঁদপুরে মেঘনা নদীর চরে সরকারি খাসজমির ঘেরের মাছ বিক্রি নিয়ে ওই জমির রিসিভার হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হাইমচর উপজেলার ৪ নম্বর নীলকমল ইউনিয়নের বাহেরচরে মেঘনা নদীর পশ্চিমের ওই খাসজমির মালিকানা নিয়েও বিরোধ রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) খায়রুল কবিরকে এ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

চাঁদপুর পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়ে এ ঘটনার সত্যতা কতটুকু আছে, কোনো দুর্নীতি বা অনিয়ম হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত কমিটি ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেন দাখিল করবেন।’

ক্ষমতার অপব্যবহার করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চাঁদপুর জেলা কমিটির সহসভাপতি ও তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির ভাই জাওয়াদুর রহিম টিপু ওই চরের প্রায় ৪৮ দশমিক ৫২৫ একর জমি ২০১৯ সালে নিজের দখলে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার নামে ওই এলাকার নামকরণ হয় ‘টিপুনগর’।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ১৫ আগস্ট হাইমচর থানার ওসির নির্দেশে ওই থানার এসআই মো. জাকির হোসেন মাছের ঘেরে জাল ফেলে কয়েক লাখ টাকার মাছ তুলে নিয়ে পাশ্ববর্তী জেলার হায়দারগঞ্জে নিয়ে বিক্রি করেন। তবে মাছ বিক্রির কথা স্বীকার করলেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোহাম্মদ নাজমুল হাসান। 

তিনি বলেন, ‘দুই বছর ধরে স্থানীয় লোকজন টিপুনগরের মাছের ঘের থেকে মাছ এবং বাগান থেকে ফল-ফসল চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিল। এ জন্য এখানে কী পরিমাণ মাছ আছে দেখতে আমরা জাল ফেলি। পরে সেগুলো বিক্রি করা হয়। সেই টাকা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।’

এ ব্যাপারে কথা হয় হাইমচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘আমরা গত ১৫ আগস্ট ওসি সাহেবের নির্দেশে টিপুনগর থেকে যে মাছ ধরেছি, সেগুলো পাশের জেলার হায়দারগঞ্জে নিয়ে ৩৯ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। সেই মাছ বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার দায়িত্ব ওসি সাহেবের। কিন্তু ওসি সাহেব গত ১৯ আগস্ট থানা থেকে বদলি হয়ে চাঁদপুর পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত হন।’

নতুন ওসি হিসেবে যোগদান করেন মো. শাহ আলম। এ ব্যাপারে ওসি শাহ আলম বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। কারণ আমি ২৩ আগস্ট এখানে যোগদান করি।’

বর্তমান হাইমচর উপজেলার ইউএনও মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি গত ২৩ আগস্ট এই উপজেলায় ইউএনও হিসেবে যোগদান করি। টিপুনগর থেকে যে মাছ বিক্রি হয়েছে সেটা উন্মুক্ত নিলাম বা দরপত্রের কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে জেনেছি। কিন্তু সরকারের অধিনে থাকা কোনো কিছু বিক্রি করতে হলে নিলামের মাধ্যমেই বিক্রি করতে হয়। কিন্তু থানা পুলিশ কোনো নিলাম আয়োজন করেনি বা আমাদেরকেও জানায়নি। মাছ বিক্রির অর্থও সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি।’

উল্লেখ্য, চাঁদপুরের হাইমচরের আলোচিত ‘টিপুনগর’ এখন আদালতের নিয়ন্ত্রণে। সেখানকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দেখভালের জন্য হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) রিসিভার নিয়োগ দিয়েছেন আদালত।