২৩ আগস্ট ২০২৬, ২০:৪৮

মারধর করে ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

স্থানীয় ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম নয়ন।  © সংগৃহীত

কক্সবাজারের রামু থানার সামনে একটি চায়ের দোকানে এক ব্যক্তিকে মারধর করে ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম নয়ন ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জয়নাল আবেদীন (৩৭) রামু থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে আরিফুল ইসলাম নয়ন ও কাওসারসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে রামু থানার সামনে রাহুলের চায়ের দোকানে চা খেতে যান রাজারকুল ইউনিয়নের ডিয়াংপাড়ার বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন। তাঁর কাছে সিএনজি কেনার জন্য ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা ছিল।

এ সময় কাওসার, আরিফুল ইসলাম নয়নসহ আরও কয়েকজন তাঁর কাছে থাকা টাকা সম্পর্কে জানতে চান। জয়নাল তাঁদের জানান, টাকাগুলো তাঁর মামা আব্দুল শুকুরের সিএনজি কেনার জন্য নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে মাদক ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে ওই টাকা মাদক কেনাবেচার বলে দাবি করা হয়।

একপর্যায়ে তাঁকে চায়ের দোকানের ভেতরে মারধর করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। এ সময় আরিফুল ইসলাম নয়ন বুট জুতা দিয়ে তাঁর বাম পায়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করেন জয়নাল।

পরে কাওসার ও নয়ন তাঁর কাছ থেকে নগদ ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময় কাওসার তাঁকে গলায় চাপ দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন এবং বিষয়টি কাউকে জানালে অপহরণ করে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

জয়নালের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে রামু থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। পুলিশ অভিযোগটি তদন্ত করছে।

অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম নয়নের বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফাহিমুর রহমান বলেন, কোনো অপরাধী বা অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তির পরিচয় ছাত্রদলের পরিচয় হতে পারে না। কারও বিরুদ্ধে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ উঠলে বিষয়টি দলীয়ভাবে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ছাত্রদল কোনো ধরনের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা কিংবা মানুষের ওপর হামলা-নির্যাতনকে প্রশ্রয় দেয় না। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে সত্যতা পাওয়া গেলে দলীয় শৃঙ্খলা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে ফজলুল হক বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এবং ঘটনার সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’