২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৫:১৪

মাদকাসক্ত ছেলের হামলায় মা ও ভাই গুরুতর আহত

​চন্দ্রিমা থানা  © সংগৃহীত

রাজশাহীতে মা ও ভাইকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছে মেহেদী হাসান মুন্না (৩৪) নামের এক মাদকাসক্ত যুবক। ২২ আগস্ট রাত আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানার মেহেরচণ্ডী উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

​আহতরা হলেন অভিযুক্ত মুন্নার মা মোছা. মনোয়ারা খাতুন টুলু (৫৫) ও ছোট ভাই মো. মৃদুল (২৮)।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুন্না দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং তার মানসিক সমস্যা ছিল। কয়েকবার তাকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে (রিহ্যাবে) পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে ফিরে এসে তিনি রিকশা চালালেও নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। ঘটনার রাতে নেশার টাকার জন্য মা ও ভাইয়ের ওপর বঁটি নিয়ে হামলা চালান তিনি। চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন এবং দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন।

​চন্দ্রিমা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাহাবুব সিদ্দিকী জানান, মেহেরচণ্ডী থান্দাপাড়া এলাকায় আনুমানিক রাত ১২টার দিকে দেশি অস্ত্র দিয়ে মা ও ভাইকে আঘাত করে মাদকাসক্ত ছেলে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে। হামলায় ও গণপিটুনিতে তারা তিনজনই আহত হয়েছেন। বর্তমানে মনোয়ারা টুলু রামেক হাসপাতালের ২ নম্বর ওয়ার্ডে এবং মুন্না ও মৃদুল ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​রামেক হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ এসআই আকরামুজ্জামান জানান, তিনজনকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের অবস্থা বেশ সংকটাপন্ন।

​এ ঘটনায় আহত মনোয়ারা খাতুনের মেয়ে বাদী হয়ে চন্দ্রিমা থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলার ভিত্তিতে হামলাকারী মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হামলায় ব্যবহৃত ধারালো বঁটিটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার করা আসামি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন; সুস্থ হলে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো মৃত্যুর খবর খণ্ডন করে আরএমপির মুখপাত্র অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) গাজিউর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু ফেসবুক আইডি ও পেজ থেকে এ ঘটনায় ভিকটিমদের মৃত্যুর বিষয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে ভিকটিমদের মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ধরনের মিথ্যা ও গুজবনির্ভর তথ্য প্রচার অনাকাঙ্ক্ষিত এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। তাই সঠিক যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার বা শেয়ার না করার জন্য সকলকে অনুরোধ করা হচ্ছে।