২৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৪

মৃত্যুর দুই বছর পর বিয়ে রেজিস্ট্রি, কাজির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ

অভিযুক্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার আব্দুল হাই  © সংগৃহীত

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে মৃত্যুর দুই বছর পর এক যুবকের বিয়ে রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ উঠেছে এক কাজির (নিকাহ রেজিস্ট্রার) বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালে মারা যাওয়া মতিয়ার রহমানের নামে ২০২৬ সালের ৮ আগস্ট বিয়ে নিবন্ধন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার বাবা হোসেন আলী। বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে প্রশাসন তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে।

তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের মৃত্যুসনদ অনুযায়ী, মতিয়ার রহমান ২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরিবারের সদস্যরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মৃত্যুর প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। অথচ তার নামে ২০২৬ সালের ৮ আগস্ট নতুন বিবাহ নিবন্ধনের ঘটনা ঘটেছে, যা আইনিভাবে অসম্ভব বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

জানা গেছে, তারাপুর ইউনিয়নের লাটশালা গ্রামের নায়েব আলীর মেয়ে শারমিন আক্তারের সঙ্গে মতিয়ার রহমানের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি। মতিয়ারের মৃত্যুর পর শারমিন আক্তার অন্যত্র বিয়ে করেন এবং বর্তমানে তিনি নতুন স্বামীর সঙ্গে বসবাস করছেন। এই অবস্থায় নতুন করে বিবাহ নিবন্ধনের প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় লোকজন।

মতিয়ার রহমানের বাবা হোসেন আলী অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলে ২০২৪ সালে মারা গেছেন। শারমিনের সঙ্গে তার বিয়ে পারিবারিকভাবেই হয়েছিল। ছেলের আগের বিবাহের নিকাহনামার নকল কপি প্রয়োজন হওয়ায় তিনি সংশ্লিষ্ট কাজির কাছে যান। পুরোনো রেজিস্ট্রেশন থেকে নকল কপি দেওয়ার কথা থাকলেও কাজি টাকা নিয়ে ২০২৬ সালের ৮ আগস্ট তার মৃত ছেলের বিবাহ নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করেন। ঘটনা জানাজানি হলে কাজি আবার ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি তারিখ উল্লেখ করে আরেকটি নকল কপি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

হোসেন আলী আরও বলেন, ‘আমি শুধু আগের বিয়ের কপি চেয়েছিলাম। কিন্তু কাজি টাকা নিয়ে ২০২৬ সালে নতুন করে বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করেছেন।’ তিনি এ ঘটনার তদন্ত করে কাজির মূল রেজিস্টার, আগের বিবাহের তথ্য ও ২০২৬ সালের রেজিস্ট্রেশন এন্ট্রি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

একই বিবাহের ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি এবং ২০২৬ সালের ৮ আগস্ট—এই দুই ভিন্ন তারিখে নিকাহনামা ও রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত নথি থাকার অভিযোগে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কীভাবে মৃত ব্যক্তির নামে নতুন বিবাহ নিবন্ধন সম্ভব—এমন প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। অনেকেই এটিকে কাজি ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে গড়ে ওঠা দুর্নীতি চক্রের অংশ বলে মনে করছেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে নিকাহ রেজিস্ট্রার আব্দুল হাই বলেন, ‘নিহত মতিয়ার রহমানের বিবাহ ২০২৬ সালের ৮ আগস্ট নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়ে এ ধরনের কাজ করিনি। আমার রেজিস্টারে যে তথ্য রয়েছে, তা নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার ও নথিপত্র যাচাই করলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।’

তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘মতিয়ার ২০২৪ সালে মারা গেছে, এটা আমি জানি। পরিষদ থেকে পরিবারের লোকজন মৃত্যুর প্রত্যয়নপত্রও নিয়ে গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, এমন কাজের কোনো সুযোগ নেই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা প্রশাসন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।