মাদকের সঙ্গে যুক্ত থাকলে মৃত্যুর পর দাফন করবে না গ্রামবাসী
মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মাদকাসক্ত ব্যক্তির দাফন না করানোসহ ৫ কঠোর অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন গ্রামবাসী। শুক্রবার (২১ আগস্ট) জুমার নামাজ শেষে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যম সোনাপাহাড় দরবার টিলা এলাকার বাইতুশ শরফ জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জানা গেছে, মাদকের বিস্তার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিকভাবেও কঠোর অবস্থান নেন চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যম সোনাপাহাড় দরবার টিলা এলাকার বাসিন্দারা। মাদক সেবন, বিক্রি ও সরবরাহের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এ ঘোষণা দেন স্থানীয় মসজিদের মুসল্লি, মসজিদ কমিটি ও সচেতন সমাজ।
মাদকের সঙ্গে জড়িতদের সামাজিকভাবে পাঁচটি বিষয়ে বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্তগুলো হলো— মৃত্যুর পর তাদের সামাজিকভাবে দাফন করা হবে না, মসজিদের খাটিয়া ব্যবহার করা হবে না, ইমাম তাদের বাড়িতে খাবার গ্রহণ করবেন না, তাদের পরিবারের সামাজিক অনুষ্ঠানে কেউ অংশ নেবেন না এবং মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকে সমাজ থেকে বহিষ্কার করা হবে।
স্থানীয়রা জানান, মাদক সেবন, বিক্রি, সরবরাহসহ মাদকসংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মাদকের সঙ্গে জড়িতদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের প্রশ্রয় না দেওয়া, তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদকসংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মাধ্যমে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। পরিবার ও সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলে মাদকের বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
মাদক নির্মূল কমিটির সভাপতি আব্দুর আল রহিম বলেন, ‘এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মসজিদের মুসল্লিদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাদকের সঙ্গে জড়িতদের সামাজিকভাবে পাঁচটি বিষয়ে বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মৃত্যুর পর তাদের সামাজিকভাবে দাফন করা হবে না, মসজিদের খাটিয়া ব্যবহার করা হবে না, ইমাম তাদের বাড়িতে খাবার গ্রহণ করবেন না, তাদের পরিবারের সামাজিক অনুষ্ঠানে কেউ অংশ নেবেন না এবং মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকে সমাজ থেকে বহিষ্কার করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য কাউকে অপমান করা নয়। মাদকের বিরুদ্ধে সমাজকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন করা এবং যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সবাইকে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নিজে বাঁচতে এবং সমাজকে বাঁচাতে এগিয়ে আসতে হবে।’