২১ আগস্ট ২০২৬, ১৫:২১

চা-শ্রমিকদের মজুরি ৫০০ টাকাসহ ১১ দফা দাবিতে শাহবাগে বিক্ষোভ

চা-শ্রমিকদের মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ এবং ভূমি অধিকার নিশ্চিতকরণসহ ১১ দফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ  © টিডিসি ছবি

চা-শ্রমিকদের মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ এবং ভূমি অধিকার নিশ্চিতকরণসহ ১১ দফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল ১১টায় ঢাকাস্থ চা বাগানের ছাত্র-যুবকদের আয়োজনে শাহবাগ চত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। 

সমাবেশ থেকে চা-শ্রমিকদের জন্য ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টসংক্রান্ত ‘অযৌক্তিক’ গেজেট বাতিলের দাবি জানানো হয়।

চা শ্রমিক সন্তান মোহন রবিদাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন চা শ্রমিক সন্তান সাগর খান হৃদয়, মুন্না ভর, শংকর বৈদ্য, শুভ কৈরি, উত্তম গোয়ালা, নিশান চৌহান, হরিবল বুনার্জী, অমিত ভর, প্রতাপ উরাং, সংগীত রুদ্র পাল, ইমন তাঁতি, কিষাণ কালিন্দী, গোলাপ চান ও আদুলাল রবিদাসসহ অনেকে।

সমাবেশে বক্তারা চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, ভূমির অধিকার এবং জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি চা-বাগানের শ্রমিক ও তাদের সন্তানদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন (অধ্যায় ২, ধারা-৫) অনুযায়ী নিয়োগপত্র দেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও কোনো চা শ্রমিককে নিয়োগপত্র দেওয়া হয় না। আইন অনুযায়ী ৩ মাস কাজের পর স্থায়ীকরণের বিধান থাকলেও প্রায় ২,৫০,০০০ শ্রমিক সারাজীবন কাজ করেও স্থায়ী হচ্ছে না।

৫% ইনক্রিমেন্টের অযৌক্তিক গেজেট বাতিল করে চা-শ্রমিকদের মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ, ভূমি অধিকার নিশ্চিতকরণসহ আমাদের ১১ দফা দাবিসমূহ:
১. চা শ্রমিকদের মজুরি কমপক্ষে ৫০০ টাকা নিশ্চিত করা;
২. চা জনগোষ্ঠীর ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা;
৩. শ্রম আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক নিয়োগপত্র প্রদান করা ও ৩ মাস পর স্থায়ীকরণের বিধান কার্যকর করতে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা এবং আইন লঙ্ঘনকারী বাগান মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া;
৪. প্রতিটি চা বাগানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চা বাগান অঞ্চলে উচ্চ বিদ্যালয়, কারিগরি বিদ্যালয় ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করা;
৫. প্রতিটি চা বাগান ক্লাস্টারে কমপক্ষে একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করুন, যেখানে থাকবে প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, ধাত্রী, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জাম। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে নলকূপ বা পানি শোধনাগার স্থাপন করা;
৬. চা শ্রমিকদের জন্য মানসম্মত আবাসন নির্মাণে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে একটি বিশেষ আবাসন প্রকল্প চালু করা এবং বিদ্যুৎ সংযোগ, পয়ঃনিষ্কাশন ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা;
৭. চা বাগানের ১১৬টি জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ তাদের বৈচিত্র্যময় ভাষা, সংস্কৃতি, লোকশিল্প, উৎসব ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য একটি "চা জনগোষ্ঠী কালচারাল একাডেমি" প্রতিষ্ঠা করা;
৮. জাতীয় বাজেটে চা জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য পৃথক বরাদ্দ নিশ্চিতকরণ এবং এই অর্থের ব্যয়ের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন মনিটরিং কমিটি গঠনে উদ্যোগ গ্রহণ করা;
৯. বেকার যুব সমাজের দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ চা বাগানের বহুমাত্রিক সমস্যা সমাধানে একটি পূর্ণাঙ্গ "চা শ্রমিক উন্নয়ন একাডেমি" স্থাপন ও একটি পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করা;
১০. শ্রম আইনের ৩২(১) ধারাসহ চা শ্রমিকস্বার্থের সাথে সাংঘর্ষিক সকল ধারা-উপধারা সংশোধন করুন। আইন বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে চা বাগান পরিদর্শন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং শ্রমিকদের আইনি সহায়তা প্রদানের জন্য বিশেষ আইনি সেবা চালু করা;
১১. জাতীয় গণশুমারিতে চা জনগোষ্ঠীকে পরিচয়ভিত্তিকভাৱে পৃথকভাবে গণনা ও স্বীকৃতি প্রদান করা, আমাদের প্রকৃত সংখ্যা, অবস্থান ও প্রয়োজন নির্ভুলভাবে জানা যায় এবং উন্নয়ন পরিকল্পনায় আমরা অন্তর্ভুক্ত হই।