১৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৬

‘খাসির মাংস’ নয়, বেশি কাবিন চাওয়ায় ও হুমকি দেওয়ায় বিয়ে ভেঙেছেন—দাবি সেই প্রবাসীর

জাপান প্রবাসী বর   © সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় খদরে খাসির মাংস না থাকায় বিয়ে না করে চলে যাওয়ার ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। এবার বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পেছনে খাসির মাংস নয়, বরং কনেপক্ষের অতিরিক্ত কাবিন দাবি, যোগাযোগে বাধা এবং হত্যার হুমকিকে কারণ হিসেবে দাবি করেছেন জাপানপ্রবাসী বর জুনায়েদ মিয়া।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে তাকে নিয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালাতে টাকা দিয়ে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ নিয়োগেরও অভিযোগ তুলেছেন জুনায়েদ।

জুনায়েদ মিয়া বলেন, ‘সোমবার (১৭ আগস্ট) থেকে আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ চালানো হচ্ছে। টাকা দিয়ে ভুয়া সাংবাদিক ভাড়া করে এসব করানো হচ্ছে। বিয়ের আসরে বসে খাওয়া-দাওয়া শেষে মেয়েপক্ষ আমার কাছে পূর্ব নির্ধারিত অ্যামাউন্টের চেয়ে ১০ গুণ অতিরিক্ত কাবিন দাবি করে। আমি এবং আমার পরিবার তা দিতে অস্বীকার করলে এবং কথা কাটাকাটি-তর্কাতর্কি শুরু হলে তারা আমাদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেয়। পরে আমাদের সব লাগেজ, যা আমরা তাদের মেয়ের জন্য নিয়ে গেছিলাম সেটা ফেরত পাঠায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘মেয়ের সঙ্গে আমাকে কোনো রকম যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি এবং সে যাতে যোগাযোগ করতে না পারে, সেভাবেই তার বাবা তাকে শাসিয়েছে। রাতে তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিয়ে করতে বললেও আমি তাতে রাজি হইনি। ফলে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে যে, জ-বা-ই করে ফেলার।’

অভিযোগের বিষয়ে জুনায়েদ বলেন, ‘তার পর তারা রাত থেকে টাকা দিয়ে ভাড়া করা সাংবাদিক দিয়ে নিজ খুশি মতো ভুয়া পোস্ট করিয়ে আমার সম্মানহানির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আপনারা এগুলাতে বিচলিত হবেন না সেই আশা করছি। ধন্যবাদ।’

তবে জুনায়েদের এসব অভিযোগের বিষয়ে কনেপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এর আগে সোমবার (১৭ আগস্ট) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে বিয়ে না করেই অনুষ্ঠান থেকে চলে যান জাপানপ্রবাসী জুনায়েদ মিয়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুনায়েদ কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার জন্য কনের বাড়িতে পৌঁছালে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। এ সময় ফুল নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং উপস্থিত লোকজনের সামনে বিরূপ মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: খাসির মাংস না পেয়ে বিয়ের আসর থেকে চলে গেলেন জাপানপ্রবাসী বর

পরে ফুল ও গেটের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। আত্মীয়-স্বজনদের খাওয়া-দাওয়া শেষে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বরপক্ষের জন্য খদরে খাবার পরিবেশন করা হয়। সেখানে খাসির মাংস না থাকায় জুনায়েদ আপত্তি জানান। খাসি ছাড়া খাবেন না এবং খাসি না দিলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও করবেন না বলে জানালে কনেপক্ষের আত্মীয়-স্বজনসহ উপস্থিত লোকজন তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন।

তবে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন জুনায়েদ। শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করেই কনের বাড়ি থেকে ফিরে যান বলে স্থানীয়রা জানান।

কনের বাবা শফিক মিয়া বলেন, ‘আমাকে আগে জানানো হলে খদরে খাসির ব্যবস্থা করতাম। এ বিষয়ে আমাকে আগে কিছুই বলা হয়নি।’ তিনি দাবি করেন, এরপরও আত্মীয়-স্বজনসহ সবাই জুনায়েদকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিক মিয়াও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক। খাসির বিষয়টি আসার পর জুনায়েদকে অনেকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি খাসি ছাড়া বিয়ে করতে রাজি হননি।’