বিদ্যুতের খুঁটি বসানোর নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামপুর ও দক্ষিণ চরপাড়া গ্রামে বিদ্যুতের খুঁটি বসানোর কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি রিয়াজ সিকদারের বিরুদ্ধে। প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা করে আদায়ের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়রা জানান, দুই গ্রামের শতাধিক পরিবার এখনো বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছে। সম্প্রতি পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেনের নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারের মাধ্যমে ওই এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপনের কাজ শুরু করে। এ সুযোগে খুঁটি পরিবহন ও স্থাপনের খরচের কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছেন যুবদল নেতা রিয়াজ সিকদার।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কথা বলে প্রত্যেক পরিবারের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে দুই হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মিটার সংযোগের জন্য আরও দুই হাজার টাকা এক সপ্তাহের মধ্যে পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। এতে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো চরম বিপাকে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী তহমিনা বেগম, সাহানাজ বেগম, রিয়াজ হাওলাদার ও জাহিদ ফরাজীসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, অনেকেই নাকফুল বন্ধক রেখে, ধান চাষের জন্য নেওয়া অগ্রিম টাকা থেকে কিংবা সংসারের প্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে টাকা দিয়েছেন।
নাসির উদ্দিন নামে এক ভুক্তভোগী জানান, তার বাড়ির পাশে বিদ্যুতের খুঁটি বসানোর সময় নির্ধারিত দুই হাজার টাকা দিতে না পারায় খুঁটিটি সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে রাতে তিনি রিয়াজ সিকদারকে এক হাজার টাকা দিলে পরদিন তার বাড়ির সামনে খুঁটি স্থাপন করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি রিয়াজ সিকদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে শ্রমিকদের খাবারের জন্য কিছু টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন তিনি। অন্য অভিযোগগুলোকে তিনি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের সাব-ঠিকাদার সুমন মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্রাহকদের কাছ থেকে রিয়াজ সিকদারের মাধ্যমে যে টাকা নেওয়া হয়েছে, তা ওই গ্রাহকদের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কলাপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম শেখ আব্দুর রহমান বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ লাইনের কাজ চলমান রয়েছে। এ কাজের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনো ধরনের টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।