১৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৬

অটোরিক্সার কারখানায় নজর নেই প্রশাসনের, অভিযান শুধু সড়কে

অটোরিক্সা চালক  © টিডিসি ফটো

যশোর শহরে বিভিন্ন মডেলের ইঞ্জিনচালিত অটোরিক্সার ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে। গ্যারেজ মালিকরা ইচ্ছামত ইঞ্জিনচালিত অটোরিক্সা তৈরি করে শহরে ছাড়ছেন। এসব রিক্সার ইঞ্জিনের পাওয়ার তারা ইচ্ছামত তৈরি করেন। কেউ রিক্সায় মটরসাইকেলের চাকা, কেউবা বিভিন্ন ধরণের লম্বা চাকা ব্যবহার করছেন। আবার কোন কোন গ্যারেজ মালিক খেলনার মত করে রিক্সা তৈরি করে রোডে ছেড়েছেন। 

এসব রিক্সায় চলাচল করা অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দশ হাজারের উপরে এসব  ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। অথচ পৌরসভা থেকে এসব ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সার কোন অনুমোদন নেই। অনুমোদনহীন অবৈধ রিক্সার জন্য কোনভাবেই যানজটমুক্ত শহর গড়া সম্ভব হচ্ছে না। এসব বিষয়ে কারো নজর নেই বলে শহরবাসীর অভিযোগ। এসব অটোররিক্সা তৈরির গ্যারেজগুলোতে প্রশাসনের কোন নজর নেই। মাঝে মধ্যে শুধুমাত্র সড়কে অভিযান চালানো হয়।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যশোর শহরে বিভিন্ন মডেলের অবৈধ  ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সায় ভরে গেছে। যেসব রিক্সার একটিরও কোন অনুমোদন নেই। যুবসমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য গ্যারেজ মালিকরা দেখতে অনেকটা খেলার মত এমন রিক্সাও বাজারে ছেড়েছেন। ইচ্ছামত বিদ্যুতের পাওয়ার ব্যবহার কেউ কেউ মটরসাইকেলের চাকা আবার কেউবা লম্বা প্রকৃতির চাকা দিয়ে রিক্সা তৈরি করেছেন। আইন প্রয়োগ না থাকায় দেদারছে এসব অবৈধ রিক্সা চলাচল করছে। 

জেলার বিভিন্ন গ্রামগঞ্জ থেকে এসব অবৈধ রিক্সা শহরে এসে ভীড় করে। যশোর পৌরসভার মধ্যে ২ হাজার ৯ শত প্যাডেল রিক্সার চলাচলের অনুমোদন আছে। অথচ সেখানে অনুমোদনহীন দশ হাজারের উপরে ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা চলাচল করছে।

তৌফিক রাব্বি নামে এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন মহাবিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। মণিহার, পালবাড়িসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তিনি প্রাইভেট পড়ান। ব্যাটারিচালিত  যাতায়াত করেন তিনি। শহরে এত অটোরিক্সা বেড়ে গেছে চলাচল করা অত্যান্ত কষ্টকর। হরেক রকমের এসব রিক্সা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে। কোন রকম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই গ্যারেজ মালিক ইচ্ছামত রিক্সা বানিয়ে বাজারে ছাড়ছেন। প্রশাসনের উচিত এদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া।

যশোর আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিন জানান, যশোর নিয়ন্ত্রণহীনভাবে  ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা বেড়েই চলেছে। যার ফলে একদিকে শহরে মাত্রাতিরিক্ত হারে যানজট বেড়ে যাচ্ছে। সাধারণ নাগরিকরা শহরে শান্তিতে চলাচল করতে পারছেন না। বাইসাইকেল ও বা মটরসাইকেলেও চলাচল করা যাচ্ছে না। কোন রোডে যানজট বেঁধলে ঘণ্টাখানেকের নিচে নিরাসন হচ্ছে না। 

তিনি আরও জানান, এসব রিক্সার কারণে অতিরিক্ত বিদ্যুৎও ব্যয় হচ্ছে। তারপরও গ্যারেজ মালিকরা প্রতিনিয়ত নিত্যনুতন অটোরিক্সা তৈরি করে বাজারে ছাড়ছেন। এসব রিক্সা তৈরির যেমন কোন অনুমোদন নেই, তেমনি রাস্তায় চলাচলের জন্য  কোন লাইসেন্স নেই। অটোরিক্সা তৈরি ও রাস্তায় চলাচল করা দুটোই বেআইনি। অনুমোদনহীন এসব রিক্সায় চলাচল করাও ঝুঁকিপূর্ণ। নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনের এ বিষয়ে নজর দেয়া প্রয়োজন।

আরও দেখুন: টানা বর্ষণে স্থবির চট্টগ্রাম: কোমরসমান পানিতে তলিয়েছে বাণিজ্যিক রাজধানী

যশোরের ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজের অধ্যক্ষ জে এম ইকবাল হোসেন জানান,  ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা চালকদের দোষের শেষ নেই। কিন্তু রক্ষা পেয়ে যাচ্ছে মানবিক কারণে। দিনমজুর বা গরীব মানুষ এ দৃষ্টিকোণ রেহায় পেয়ে যাচ্ছে। পৌরসভার মধ্যে অটোরিক্সা চালানোর জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের উচিত রিক্সার নকশা ও লাইসেন্স নম্বর নির্ধারণ করে দেয়া। তাহলে গ্যারেজ মালিকদের ইচ্ছামত বিভিন্ন প্রকৃতির অটোরিক্সা তৈরি করা বন্ধ হবে। লাইসেন্সবিহীন অটোরিক্সা রোড়ে থাকবে না। 

জে এম ইকবাল হোসেন বলেন, ‘দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য লাইসেন্স দেয়ার সময় চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। চলাচলের গতিও নির্ধারণ করে দিতে হবে। নিজের খেয়াল খুশিমত এসব গাড়ি চালানো বন্ধ হবে। কর্তৃপক্ষকে এসব নিয়ম-কানুনের ব্যাপারে কড়াকড়ি হতে হবে। তাহলেই শহরের সড়কগুলো নিরাপদ ও যানজটমুক্ত থাকবে।’

এ ব্যাপারে যশোরের ট্রাফিক ইন্সেপেক্টর মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘অটোরিক্সার জন্য যশোর শহর যানজটমুক্ত হচ্ছে না। শহরবাসীর দুর্ভোগের মাত্রা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। গ্যারেজ মালিকরা তাদের খেয়াল-খুশিমত অটোরিক্সা তৈরি করে রোড়ে ছাড়ছেন। এসব অটোরিক্সা তৈরির কোন অনুমোদন নেই। সড়কে চলাচলেরও কোন লাইসেন্স নেই। তৈরি করা ও চলাচল করা দুটোই বেআইনি। পৌর কর্তৃপক্ষের আলোচনা করে দ্রুতই এসব অটোরিক্সার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে’

যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান বলেন, ‘যশোর পৌরবাসীকে শান্তি ও স্বস্তিতে রাখার জন্য দ্রুতই এসব অবৈধ গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পর্যায়ক্রমে অভিযান চালিয়ে এদের সড়ক থেকে উচ্ছেদ করা হবে। আর যেসব গ্যারেজ মালিকরা এসব অটোরিক্সা তৈরি করছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।’