মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ মুছে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র বিক্রির অভিযোগে জরিমানা
অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের গায়ে থাকা উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ মুছে নতুন তারিখ বসিয়ে বিক্রির অভিযোগে ফেনীতে এক প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) শহরের মহিপাল এলাকায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে এ জরিমানা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ফেনী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম। অভিযানে জেলা ব্যাটালিয়ন আনসারের একটি দল সহযোগিতা করে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, মহিপাল এলাকায় সোনালী ব্যাংক ভবনে জ্বালানি ও অক্সিজেন সামগ্রী বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স তুহিন এন্টারপ্রাইজে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় দেখা যায়, বিভিন্ন কোম্পানি থেকে সরবরাহ করা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের নতুন বোতলে কোম্পানির দেওয়া উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ তুলে ফেলা হয়েছে। পরে ওই স্থানে নিজেদের স্টিকার লাগিয়ে বিক্রির দিন থেকে পরবর্তী এক বছরের মেয়াদ উল্লেখ করে যন্ত্রগুলো বাজারজাত করা হচ্ছিল।
এ ছাড়া শোরুমে থাকা এসব যন্ত্রের কোনো কোনোটির উৎপাদনের তারিখ থেকে কয়েক মাস, আবার কোনোটি এক বছর পেরিয়ে গেছে। এরপরও পুরোনো তারিখ মুছে নিজেদের পছন্দমতো বিক্রির তারিখকে উৎপাদনের তারিখ হিসেবে দেখিয়ে সেগুলো বিক্রি করা হচ্ছিল।
সূত্র আরও জানায়, প্রতিষ্ঠানটি নিজেরা রিফিল না করেও অন্যের কাছ থেকে রিফিল করে আনা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রেও নিজেদের স্টিকার লাগিয়ে নিজেদের নির্ধারিত মেয়াদ বসিয়ে দিচ্ছিল। এ ঘটনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারায় মেসার্স তুহিন এন্টারপ্রাইজকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মাঈনুল ইসলাম তুহিন ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করবেন না বলে লিখিত অঙ্গীকার করেন।
আরও পড়ুন: শিক্ষকদের অশ্রু মুছতে আজ ২১০০ কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী
এদিন নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে জেলার লালপোল, ফতেহপুর ও হাজীর বাজার এলাকায়ও অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় কাঁচা মরিচ, ডিম, সবজি, গ্যাস সিলিন্ডার, সুগন্ধী চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের বাজার ও ক্রয়-বিক্রয়সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হয়। অভিযানে অন্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করার পাশাপাশি ভোক্তা সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ করা হয়।
ভোক্তা অধিকারের ফেনী কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড মানুষের জীবন ও নিরাপত্তাকে বিপন্ন করতে পারে। জরিমানার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবে না মর্মে, ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।