মিরসরাইয়ে গ্যাসের তীব্র সংকট, মহাসড়কে ৩ কিলোমিটার যানবাহনের সারি
জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সংকটের প্রভাবে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে তীব্র গ্যাসসংকট দেখা দিয়েছে। গ্যাসের জন্য ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে যানবাহন চালকদের। উপজেলার চলমান ফিলিং স্টেশনের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় ৩ কিলোমিটারজুড়ে তৈরি হয়েছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সিএনজি অটোরিকশা, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহন গ্যাস নেওয়ার জন্য মহাসড়কের ওপর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। কোনো কোনো চালক ৫ ঘণ্টা, কেউ ১০ ঘণ্টা আবার কেউ এর চেয়েও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচলেও সৃষ্টি হচ্ছে ভোগান্তি।
সিএনজি অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ ঈশান বলেন, ‘গতকাল রাত ২টায় এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। এখনো পাম্প থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে আছি। কখন গ্যাস পাব, সেটাও জানি না।’
মাইক্রোবাসচালক তারেক হোসেন বলেন, ‘গ্যাসের জন্য গাড়ি নিয়ে বের হতে পারছি না, ভাড়াও নিতে পারছি না। পাম্পে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। আমাদের কোনো আয় নেই।’
চালকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০০ থেকে ২০০ টাকা নিয়ে কিছু যানবাহনকে ভিআইপি সুবিধায় গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে পাম্প বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া গ্যাসের তীব্র সংকটে একদিকে যেমন চালকদের সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে আয় বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজনের খরচ, গাড়ির কিস্তি ও সন্তানের পড়ালেখার ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ছেন তাঁরা।
তবে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে গ্যাস দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চলমান ফিলিং স্টেশনের ইঞ্জিনিয়ার সুমন। তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে গ্যাস দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহনকে শুধু ভিআইপি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আগে প্রতিদিন আমাদের পাম্পে চার শতাধিক যানবাহন গ্যাস নিতে আসত। বর্তমানে আশপাশের উপজেলাগুলোর অনেক পাম্পে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় সেসব এলাকার যানবাহনও এখানে আসছে। ফলে চাপ অনেক বেড়ে গেছে।’