ফোন না ধরায় শিক্ষিকাকে চড়-থাপ্পড়, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত
মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় ক্ষিপ্ত হয়ে সহকারী শিক্ষিকাকে চড়-থাপ্পড় মারা ও ঘাড় ধরে টেনে-হিঁচড়ে স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগে নেত্রকোণার মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী বড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ জিয়াউল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নেত্রকোণা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল আজম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ৬ আগস্ট মোবাইল ফোন না ধরাকে কেন্দ্র করে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জোৎস্না আক্তারের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিয়াউল হকের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি জোৎস্না আক্তারকে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং ঘাড় ধরে টেনে-হিঁচড়ে বিদ্যালয়ের বাইরে বের করে দেন।
ঘটনার পর উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগ পেয়ে গত ৯ আগস্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের একটি দল সরেজমিন তদন্ত করে। তদন্তে শিক্ষিকাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী আজ(১৩ আগস্ট) নেত্রকোণা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল আজম স্বাক্ষরিত আদেশে মোঃ জিয়াউল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। আদেশে বলা হয়, বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি মোতাবেক খোরাকি ভাতা পাবেন এবং এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এ বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক জিয়াউল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে মদন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা সুলতানা বলেন, “একজন সরকারি শিক্ষিকাকে চুল ধরে টেনে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া ও চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন তদন্ত করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন।”