১২ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৪২

ফ্যামিলি কার্ডের শুমারিতে নিয়োগ নিয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ-ভাঙচুর, অবরুদ্ধ দুই ইউএনও

ফ্যামিলি কার্ডের শুমারিতে নিয়োগ নিয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ-ভাঙচুর, অবরুদ্ধ দুই ইউএনও  © সংগৃহীত

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলের নিজ নির্বাচনী আসনে (নাটোর-১) ফ্যামিলি কার্ডের শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল প্রকাশকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও সাংবাদিকদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। 

এ সময় বাগাতিপাড়া ও লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ঢুকে বিক্ষোভ করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে দুই ইউএনও নিজ নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাগাতিপাড়া এবং দুপুর ১২টার দিকে লালপুর উপজেলা পরিষদে এসব ঘটনা ঘটে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি। রাজনৈতিক বিবেচনায় আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠদের সুযোগ দেওয়া হলেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে প্রকাশিত ফলাফল বাতিল করে পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানান তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকালে বাগাতিপাড়া উপজেলার মালঞ্চি রেলগেট এলাকায় উপজেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। পরে বেলা ১১টার দিকে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল রানা ও পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোতালেব হোসেন পান্নার নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি উপজেলা পরিষদে গিয়ে ইউএনওর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়।

একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের কয়েকজন ইউএনওর কক্ষের দরজায় লাথি দেন। এ সময় কয়েকটি ফুলের টব, প্লাস্টিকের চেয়ার এবং বারান্দার একটি গেট ভাঙচুর করা হয়। বিক্ষোভকারীদের হামলায় দৈনিক সংগ্রামের উপজেলা প্রতিনিধি ফজলুর রহমান আহত হন। এ ছাড়া সেখানে উপস্থিত আরও কয়েকজন সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। পরে বিক্ষোভকারীরা বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাককে প্রায় ৩০ মিনিট তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আশ্বাসে তারা কার্যালয়ের নিচে অবস্থান নেন।

এ সময় উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান শফিক, পাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক দুলুসহ বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে জড়ো হন। পরে তারা ইউএনওর কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত দুই স্থানীয় সাংবাদিককে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বরকত উল্লাহ তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে তাদের বঞ্চিত করে আওয়ামী লীগের লোকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা প্রকাশিত ফলাফল বাতিল করে পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাক ও লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বরকত উল্লাহর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর উপজেলা পরিষদ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বাগাতিপাড়া মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে জানা যায়, তিনিও ইউএনওর সঙ্গে বৈঠক করছেন।

এদিকে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলা ও হেনস্থার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। হামলার শিকার সাংবাদিকরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।