টাকা চাইলেন মহিলা দল নেত্রী, অতঃপর...
ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার নামে দরিদ্র নারীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে লালমনিরহাট জেলা মহিলা দলের সহসভাপতি শেলী খাতুনকে দল থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আঞ্জুমান আরা শাপলা বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জেলা মহিলা দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজী ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আঞ্জুমান আরা শাপলা স্বাক্ষরিত এক বহিষ্কারপত্রে জানানো হয়, লালমনিরহাট শহরের আলোরূপা এলাকার বাসিন্দা শেলী খাতুন দলীয় পদ-পদবি ব্যবহার করে চাঁদা দাবি, শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দলের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে এলাকার হতদরিদ্র নারীদের কাছে কার্ডপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে দাবি করে আসছিলেন শেলী খাতুন। ইতোমধ্যেই অন্তত চারজন নারী তাকে দাবীকৃত টাকা প্রদান করেন। আলেয়া বেওয়া নামে এক ভুক্তভোগী নারী জানান, এনআইডি নেওয়ার পর ১০ হাজার টাকা ছাড়া কার্ড দেওয়া সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দেন ওই নেত্রী।
এই চাঁদাবাজির জেরে গত ৫ আগস্ট রাতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী নারীরা শেলী খাতুনকে ডেকে এনে জবাবদিহি চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ নারীরা তাকে গণধোলাই দেন। খবর পেয়ে জেলা মহিলা দল দ্রুত তদন্ত পরিচালনা করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পায় এবং জরুরি বৈঠক ডেকে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে শেলী খাতুন দাবি করেছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও একটি কুচক্রী মহল মিথ্যা নাটক সাজিয়ে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসিয়েছে।