১১ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৬

সাড়ে তিন মাস পর কাপ্তাই হ্রদে আবার মাছ ধরা শুরু

কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার করছে জেলে  © সংগৃহীত

টানা সাড়ে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে কাপ্তাই হ্রদে আবারও মাছ ধরা শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে হ্রদে মাছ শিকার শুরু করেন জেলেরা। আজ মঙ্গলবার ১১ আগস্ট সকাল থেকে মাছভর্তি নৌযান নিয়ে রাঙামাটি শহরের ফিশারি মৎস্য অবতরণ ঘাটে ফিরতে শুরু করেন তারা।

সকালে ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, লংগদু, বরকল, সুবলং, বন্দুকভাঙাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মাছভর্তি নৌযান ঘাটে ভিড়েছে। নৌযান থেকে মাছ খালাস, ওজন করা ও ট্রাকে তোলাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলে, শ্রমিক ও আড়তদারেরা। মাছ ধরা শুরু হওয়ায় ঘাটজুড়ে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য।

ঘাটে মো. ইব্রাহিম নামে এক জেলে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রথম যাত্রায় জাল ফেলে কিছু মাছ পেয়েছি। পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো, সারা দিন মাছ ধরা চলবে।’

আড়তদার মো. কবির মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মাছ ভালোই ধরা পড়ছে। তবে আকারে খুব বেশি বড় না।’

রাঙামাটি মৎস্য ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির কোষাধ্যক্ষ মো. পান্না মিয়াও একই কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘বেশির ভাগই ছোট মাছ আসছে। এখানে পন্টুন ও মাছ রাখার জায়গার খুব অভাব। এর সমাধান করলে জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা উপকৃত হতেন।’

সমিতির যুগ্ম সম্পাদক বুলবুল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘১০০ দিন পর মাছ ধরা শুরু হলো। দিন শেষে বোঝা যাবে মোট কী পরিমাণ মাছ পাওয়া গেল।’

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) রাঙামাটি কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. ফয়েজ আল করিম গণমাধ্যমকে জানান, মাছ শিকার পুনরায় শুরু হওয়ায় অবতরণ ঘাটে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে। সকাল থেকেই মাছভর্তি নৌযান ঘাটে ভিড়তে শুরু করেছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মাছের আকার তেমন বাড়েনি বলে জানান তিনি।

আরও দেখুন: টিসি পাওয়া সেই শিক্ষার্থী আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরেছে

মো. ফয়েজ আল করিম বলেন, ‘গত বছর প্রথম দিনে ১২৫ মেট্রিক টন মাছ আহরণ হয়েছিল। আজ সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত ১৬ মেট্রিক টন মাছ অবতরণ করেছে। গত বছর ১০ হাজার মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এর চেয়ে বেশি মাছ আহরণ হয়েছিল। এবারও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।’

গতকাল রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত এক আদেশে কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণের ওপর জারি করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর মাছ ধরার ক্ষেত্রে জেলেদের কয়েকটি শর্ত মানতে হবে।

শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, বিএফডিসির রাঙামাটি কেন্দ্র থেকে বাধ্যতামূলক লাইসেন্স নেওয়া, ৯ ইঞ্চির চেয়ে ছোট পোনা মাছ না ধরা, মৎস্য অভয়াশ্রমে মাছ শিকার না করা এবং বিএফডিসি নির্ধারিত অবতরণ ঘাট ছাড়া অন্য কোথাও মাছ না তোলা।