টিসি পাওয়া সেই শিক্ষার্থী আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরেছে
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে স্কুলছাত্রীকে লাথি দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর টিসি পাওয়া সেই শিক্ষার্থী আবার বিদ্যালয়ে ফিরেছে। ওই শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে টিসি দেওয়া নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাকে আবার বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
গত রবিবার ৯ আগস্ট বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিল ওই ছাত্রী। গতকাল সোমবারও তাকে বিদ্যালয়ে দেখা গেছে। এর আগে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবারকে রবিবার বিদ্যালয়ে ডেকে নেন কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল মতিন প্রধান। এ সময় শিক্ষার্থীকে নিয়মিত বিদ্যালয়ে এসে ক্লাস করার জন্য বলা হয়।
ওই শিক্ষার্থীর বাবা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে ডেকে তার মেয়েকে স্কুলে পড়ানোর কথা বলেছেন। পরে প্রধান শিক্ষক ওই শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে ডেকে নেন এবং দুদিন বিদ্যালয়ে গিয়ে ক্লাসও করেছে। এতে তিনি ও তার পরিবার খুশি।’
এখন আর কোনো সমস্যা নেই জানিয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল মতিন প্রধান বলেন, ‘শিক্ষার্থীর প্রতি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ খেয়াল রাখবে।’
জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, ‘নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীর প্রতি যাতে কোনো ধরনের অবিচার না হয়, প্রশাসন বিষয়টি নজরে রাখবে।’
আরও দেখুন: পুলিশের উপস্থিতিতে ৩ পাচারকারীকে গণপিটুনি ও চোলাই মদে আগুন
গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ‘স্কুল ড্রেস পরা এক ছাত্রীকে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ের ওয়াকওয়েতে পেছন থেকে লাথি মারছে এক কিশোর। ছাত্রীটি প্রতিবাদ করার পরও তাকে আবার লাথি মারা হয়। পরে ভিডিওটি ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।’
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত কিশোরকে ধরে সালিশ করেন। সেখানে তাকে কান ধরে উঠবস করানো হয়। এর মধ্যে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে টিসি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তার পরিবার জানায়, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মেয়েকে স্কুলে আসতে নিষেধ করেছিল।
ভাইরাল ভিডিও নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যে সোনারগাঁ থানার পুলিশ রূপপুর গ্রামের বাড়ি থেকে অভিযুক্ত কিশোরকে এনে থানায় নেয়। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না করায় সমাজসেবা বিভাগের প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে তাকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।