০৯ আগস্ট ২০২৬, ২১:২৬

‘প্রিয় মা আমি আর পারলাম না...’

চিঠি লিখে আত্মহত্যা করেন সেই গৃহবধু  © সংগৃহীত

ভালোেবেসে বিয়ে করেছিলেন নেত্রকোনার স্বর্ণা আক্তার। তবে নিয়তির লিখন এড়ানো গেল না। স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে স্বর্ণা আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। শহরের জয়নগর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (৯ আগস্ট) সকালে উপজেলা কোয়ার্টার সংলগ্ন বাসভবন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় মরদেহের পাশ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়, যাতে তিনি স্বজনদের প্রতি ক্ষোভ ও ভালোবাসার কথা জানিয়ে লিখেন, ‘মা আমি আর পারছি না।’

নিহত স্বর্ণা আক্তার নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণকাটলি এলাকার নাজমুল হাসান নাহিদের স্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার ভোরের কোনো এক সময় তিনি শোয়ার ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন। সকাল ৯টার দিকে দীর্ঘক্ষণ সাড়া না পেয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ দরজা ভেঙে জানালার গ্রিলের সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনাস্থলে পাওয়া ডায়েরির পাতায় লেখা চিরকুটে স্বামী নাজমুলের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও অভিমানের কথা উল্লেখ ছিল। তিনি লিখেছিলেন, স্বামী তাকে কষ্ট না দেওয়ার কথা দিলেও পরবর্তীতে তা রক্ষা করেননি।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে স্বামীর সাথে অভিমান করে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। চিরকুটে ময়নাতদন্ত না করার অনুরোধ থাকলেও আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে সুরতহাল তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট আসার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।