০৯ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৪৬

দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে সকলকে সর্তক থাকার আহ্বান 

জনসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান  © সংগৃহীত

দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে সকলকে সর্তক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশে শান্তি শৃঙ্খলা ঠিক থাকতে হবে। আমরা দেখেছি আপনার এলাকায় বা বাজারে যখন কোন গন্ডগোল হয়, কোন সমস্যা হয় তখন কি দোকানপাট খোলা থাকে না, বন্ধ থাকে। এই যে ছোট দোকানদার বা ছোট ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসার যাতে ক্ষতি না হয়। দেশীয় বা বিদেশী বিনিয়োগকারী যারা আছে তারা যখন বিনিয়োগ করবে তারা তো চাইবে যে যাতে তার মিল কারখানার উৎপাদিত পণ্য ঠিকভাবে বন্দর নিয়ে যেতে পারে বা তার কাঁচামাল যাতে সঠিকভাবে আনতে পারে। রাস্তাঘাটে যাতে শান্তি থাকে। তাই না? যদি মিল কারখানা না চলে সঠিকভাবে তাহলে কি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব? হবে না। যারা শান্তি শৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায় তাদের ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে, সজাগ থাকতে হবে।

রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে মহেশখালীর মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর পরিদর্শন করে হেলিকপ্টারে প্রধানমন্ত্রী আসেন বাঁশখালী বাহারছড়ায়। তিনি পশ্চিম বাঁশখালী বন্যা কবলিত এলাকায় গিয়ে নতুন টিনের ঘর ক্ষতিগ্রস্থদের হাতে তুলে দেন। পরে এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। পরে প্রধানমন্ত্রী আসনে পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে বাঁশখালীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে ত্রান সামগ্রি ও নতুন টিনের ঘরের চাবি তুলে দেন। কয়েক হাজার গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি সমাবেশে রূপ নেয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি দেশের সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা আমাদেরকে তৈরি করতে হয়, সুন্দরভাবে লেখাপড়ার ব্যবস্থা করতে হয়, স্কুল কলেজ সুন্দরভাবে তৈরি করতে হয় তাহলে শিক্ষকদেরকে যদি ট্রেনিং দিতে হয়, ছাত্রছাত্রীদের যদি নতুন করে বই দিতে হয়, এই সকল ব্যবস্থা যদি করতে হয় তাহলে আমাদেরকে দেশের আইন শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে হবে। একইভাবে সতর্ক থাকতে হবে আমাদেরকে যারা বিভ্রান্ত তৈরি করতে চায় তারা যাতে কোন সুযোগ না পায়। কারণ বিভ্রান্তকারীরা যদি বিভ্রান্ত করার সুযোগ পায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে জনগণ। বিভ্রান্তকারী যারা তারা তো নিজেদের মত করে চলে যাবে তারা তো জনগণের সাথে থাকবে না। 

তিনি বলেন, আজকে আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আজকে বাংলাদেশের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে আমরা কি আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব? নাকি আমরা ঝগড়া ফ্যাসাদে লিপ্ত থাকবো। নাকি আমরা বিভ্রান্তকারীদের সাথে থাকব? এই ব্যাপারে আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি দেশের সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা আমাদেরকে তৈরি করতে হয়, সুন্দরভাবে লেখাপড়ার ব্যবস্থা করতে হয়, স্কুল কলেজ সুন্দরভাবে তৈরি করতে হয় তাহলে শিক্ষকদেরকে যদি ট্রেনিং দিতে হয়, ছাত্রছাত্রীদের যদি নতুন করে বই দিতে হয়, এই সকল ব্যবস্থা যদি করতে হয় তাহলে আমাদেরকে দেশের আইন শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে হবে।

তিনি বলেন, একইভাবে সতর্ক থাকতে হবে আমাদেরকে যারা বিভ্রান্ত তৈরি করতে চায় তারা যাতে কোন সুযোগ না পায়। কারণ বিভ্রান্তকারীরা যদি বিভ্রান্ত করার সুযোগ পায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে জনগণ। বিভ্রান্তকারী যারা তারা তো নিজেদের মত করে চলে যাবে তারা তো জনগণের সাথে থাকবে না।
তারেক রহমান বলেন, আজকে আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আজকে বাংলাদেশের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে আমরা কি আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব? নাকি আমরা ঝগড়া ফ্যাসাদে লিপ্ত থাকবো। নাকি আমরা বিভ্রান্তকারীদের সাথে থাকব? এই ব্যাপারে আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা জানি আমরা জানি বিগত স্বৈরাচার আমলে এই দেশের জ্বালানি বা বিদ্যুৎ খাতকে কয়েকটি গুটি সংখ্যক ব্যক্তির হাতে তুলে দেয়া হয়েছিল তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল যা এই দেশের মানুষ এর পক্ষে নয়।  

‘জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জ্বালানি ব্যবস্থা বা বিদ্যুৎ ব্যবস্থা যেটি অপরিকল্পিতভাবে যেই ব্যবস্থা কোটি কয়েক মানুষকে সুবিধা দিয়েছিল সেটি যদি জনগণের স্বার্থে সেই পরিকল্পনা করতে হয় স্বাভাবিকভাবে কিছু সময়ের প্রয়োজন। আমরা এরই ভিতরে এই কাজে হাত দিয়েছি। ইনশাআল্লাহ সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের সামনে আগামী ১০ বছর আমাদের জ্বালানি পরিকল্পনা কি হবে, আগামী ১০ বছর ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কি হবে সেই প্রস্তাবনা আমরা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করব। জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করার মাধ্যমে আমরা পরিকল্পনা দিয়ে সেই কাজ আমরা শুরু করব। যাতে করে স্কুল কলেজ হোক, হাসপাতাল হোক, মিল কারখানা হোক, বাসাবাড়ি হোক, মানুষ ঠিকভাবে বিদ্যুৎ পেতে পারে। গাড়ি, ঘোড়া সবকিছুতে, মোটরসাইকেল সবকিছুতে যাতে গ্যাস মানুষ ঠিকভাবে পেতে পারে সেই পরিকল্পনা আমরা গ্রহণ করব। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা খেয়াল করেছি বিগত কিছুদিন ধরে কিছু মানুষ কোটি সংখ্যক কিছু মানুষ এই ব্যাপারে (জ্বালানি) বিভ্রান্ত ছড়ানোর চেষ্টা করছে। আপনাদেরকে পরিষ্কারভাবে করে বলতে চাই, বিএনপি সরকার সংসদে পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে। আপনাদের যদি পরিকল্পনা থাকে আসুন জনগণের সামনে উপস্থাপন করুন। কিন্তু বিভ্রান্তিকর কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবেন না, বিভ্রান্তিকর কথা বলে জনগণের শান্তি নষ্ট করবেন না। কারণ ৫০ উপরে এই দেশের স্বাধীনতা হয়ে গিয়েছে। এখন জনগণের জন্য কাজ করার সময়, এখন দেশ গঠনের জন্য কাজ করার সময় পৃথিবীর বহু দেশ আমাদের পরে স্বাধীন হয়েছে কিন্তু তারা কাজ করার মাধ্যমে পরিশ্রম করার মাধ্যমে তাদের দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে।

তিনি বলেন, আর পিছনে থাকা যাবে না. আর পিছনে পড়ে থাকা যাবে না। এখন একটি লক্ষ্য, একটি উদ্দেশ্য জনগণের জীবনমান উন্নত করা। দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। জনগনের জন্য যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি তাতে আপনাদের সমর্থন থাকতে হবে। কারণ আমরা সবসময় বলি আমাদের অর্থাৎ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ। জনগণের সমর্থন থাকলে আমরা প্রত্যেকটি জনগণের স্বার্থে যতগুলি কর্মসূচি সবগুলো ইনশাল্লাহ আল্লাহর রহমতে আমরা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি শ্রমিকের হাতকে কর্মশক্তিতে রূপান্তর করতে চাই আমরা। যাতে করে প্রত্যেকটি মানুষ দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে, যাতে করে প্রত্যেকটি মানুষ নিজের হাতের পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের এবং পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই।  আমরা সেই বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই, আমরা সেই বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা করেছি প্রত্যাশিত বাংলাদেশ। কিন্তু এটার জন্য অপেক্ষা করে বসে থাকলে চলবে না। আমাদেরকে কাজ করতে হবে। আমাদের ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে, আমাদেরকে মিল শ্রমিক মিল কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে আমাদেরকে কর্মসংস্থান এবং শিল্পের বিপ্লব আমাদেরকে ঘটাতে হবে।

তিনি বলেন, আসুন আজকের এই জনসভায় আমরা সেই শপথ গ্রহণ করে সেই প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করি যে বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না। বাংলাদেশের মানুষ এখন সামনের দিকে যাবে বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে।

বাঁশখালী বেড়িবাঁধ নির্মাণ, লবনমূল্য নির্ধারণসহ স্থানীয়দের বিভিন্ন দাবির প্রতি ইতিবাচক মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।