হাওরের পরিবেশ রক্ষায় করিমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে পর্যটকদের ফেলা বর্জ্যে হাওরের পরিবেশ দূষণ রোধে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বালিখলা হাওড়ে পর্যটকবাহী প্রতিটি নৌকায় ময়লা ফেলার জন্য ঝুড়ি দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পর্যটক ও নৌকার চালকদের হাওরের পানিতে প্লাস্টিকসহ কোনো ধরনের বর্জ্য না ফেলার বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।
রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে মুসলিমা এসব ঝুড়ি উপহার দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে মুসলিমা পর্যটকদের উদ্দেশে বলেন, ‘হাওর আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ। এর সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। হাওরের পানিতে কোনো ধরনের ময়লা-আবর্জনা বা প্লাস্টিকের জিনিস ফেলা যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাওরের পরিবেশ নষ্ট করা যাবে না। আপনারা যেখানে ঘুরতে আসছেন, সেই জায়গাটি পরিষ্কার রাখার দায়িত্বও আপনাদের। প্রশাসন সব সময় আপনাদের পাশে আছে।’
প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় নৌকার মাঝি ও পর্যটকেরা। তাদের মতে, শুধু প্রশাসনের উদ্যোগে নয়, পর্যটক, নৌকার মালিক-চালক, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী সবাই সচেতন হলে বালিখোলা হাওড়কে পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত রাখা সম্ভব।
পরিবেশপ্রেমীদের মতে, একজন পর্যটক একটি প্লাস্টিকের বোতল পানিতে না ফেলে নৌকার ঝুড়িতে রাখলে সেটিই হতে পারে হাওর রক্ষায় বড় অবদান। একইভাবে প্রতিটি নৌকায় বর্জ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে এবং পরে সেগুলো নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার ব্যবস্থা করা গেলে পর্যটনকেন্দ্রিক বর্জ্য দূষণ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার বালিখোলা হাওরকে আগামী প্রজন্মের জন্যও সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি পর্যটক ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত সচেতনতাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর উদ্যোগ।