গোপালগঞ্জে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় আওয়ামী লীগ নেতা
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র কামাল হোসেন শেখ বাবার জানাজায় অংশ নিতে ৮ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পান। শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে হাতকড়া পরা অবস্থায় পুলিশের কঠোর নিরাপত্তায় জানাজায় অংশ নেওয়ার পর তাকে আবার কাশিমপুর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক পৌর মেয়র কামাল হোসেন শেখের পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ লুৎফর রহমান (৯৭) গত শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটায় বার্ধক্যের কারণে পৌরসভার নিজ বাসায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন)। তিনি চার ছেলে ও চার মেয়ে রেখে গেছেন।
শেখ লুৎফর রহমান পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কোটালীপাড়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার ছিলেন।
এ ছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ লুৎফর রহমান রহমান কোটালীপাড়া শাহানা রশিদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতিসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
বাবার মৃত্যুর পর জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে কামাল হোসেন শেখকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়। পরে তাকে কারা কর্তৃপক্ষ ৮ ঘণ্টার জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি দেয়। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পুলিশের একটি প্রিজন ভ্যানে কামাল হোসেন শেখকে কোটালীপাড়ায় নিয়ে আসা হয়।প্রিজন ভ্যান থেকে নেমে পিতার লাশ দেখে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।তাঁর কান্না দেখে উপস্থিত আত্মীয় স্বজনও কান্না শুরু করলে একটি শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
কোটালীপাড়া থানার ওসি রিয়াদ মাহমুদ বলেন, কোটালীপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র কামাল হোসেন শেখের বিরুদ্ধে ঢাকা ও গোপালগঞ্জে মামলা রয়েছে। এই মামলায় তিনি বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন। তার পিতার মৃত্যুতে তাকে ৮ ঘন্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়েছিল। মুক্তি পেয়ে কামাল হোসেন শেখ কোটালীপাড়ায় এসে তার বাবাব জানাযায় অংশগ্রহণ করেন। জানাজা শেষে তাকে আবার কাশিমপুর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে শনিবার বাদ আসর পৌর ঈদগাহ মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ লুৎফর রহমানের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পৌর ভবনের মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষ রাষ্ট্রীয় মর্যদায় পঞ্চপল্লী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ লুৎফর রহমানের দুটি জানাযায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিএনপি, জামায়াত ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ লুৎফর রহমানের কফিনে ফুল দিয়ে শেষ বিদায় জানানো হয়।