০৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৯

একসঙ্গে বাঁচতে চেয়েছিল দুই ভাই, মৃত্যুর পরও হাত ধরা ছিল দুজনের

নিহত দুই শিশু  © সংগৃহীত

একসঙ্গে খেলতে গিয়ে সড়কের পাশের ডোবায় পড়ে গিয়েছিল দুই শিশু। একজনকে বাঁচাতে গিয়ে আরেকজনও ডুবে যায়। পরে ডোবা থেকে তাদের উদ্ধার করা হলেও বাঁচানো যায়নি। মৃত্যুর পরও তাদের হাত ছিল একে অপরের মুঠোয় ধরা। হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটেছে নরসিংদীর মনোহরদীতে।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার নোয়াদিয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশু হলো তাওহীদ (৭) ও নাবিল (৬)। তারা সম্পর্কে মামাতো-ফুফাতো ভাই। দুজনই মাদ্রাসায় পড়ত।

নাবিল নোয়াদিয়া গ্রামের বজলুর রহমান ও মারুফা আক্তার দম্পতির ছেলে। তাওহীদ পার্শ্ববর্তী শিবপুর উপজেলার বৈলাব গ্রামের মাহবুবুর রহমান ও আইরিন আক্তার দম্পতির ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল থেকেই তাওহীদ নানাবাড়িতে যাওয়ার জন্য বায়না ধরেছিল। দুপুরের দিকে মা-বাবা তাকে নোয়াদিয়া গ্রামে নানাবাড়িতে নিয়ে যান।

দুপুরের খাবার খাওয়ার পর নাবিল ও তাওহীদ বাড়ি থেকে বের হয়। তারা সড়কের পাশে থাকা একটি ডোবার কাছে খেলছিল। একপর্যায়ে কিছু একটা তুলতে গিয়ে নাবিল ডোবায় পড়ে যায়। তাকে টেনে তুলতে গিয়ে তাওহীদও পানিতে পড়ে ডুবে যায়। তাদের সঙ্গে তখন আরও একটি শিশু খেলছিল। দুই ভাইকে ডোবায় পড়ে যেতে দেখে ছয় বছর বয়সী শিশুটি দৌড়াতে শুরু করে। একই সঙ্গে চিৎকার করতে থাকে।

আরও পড়ুন: মিয়ানমারের নাগরিক পরিচয়ে পালাচ্ছিলেন সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী, বিমানবন্দরে আটক

ডোবা থেকে কিছুটা দূরে জমিতে কাজ করছিলেন এক কৃষক। তিনি শিশুটিকে থামান। এরপর চিৎকার করার কারণ জানতে চান। ঘটনার কথা শুনে ওই কৃষক দ্রুত ডোবার কাছে ছুটে যান। পানিতে নেমে প্রথমে তাওহীদকে টেনে তোলেন। তখন তিনি দেখতে পান, পানিতে ডুবে থাকা আরেক শিশুর হাত তাওহীদের হাতের সঙ্গে ধরা।

পরে নাবিলকেও টেনে ওপরে তোলেন ওই কৃষক। এরই মধ্যে দুই শিশুর পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে দুই শিশুকে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাদের মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল থেকে দুই শিশুর লাশ বাড়িতে নিয়ে যান স্বজনেরা।

তাওহীদের নানি ও নাবিলের দাদি রিমা বেগম বলেন, ‘দুই ভাই ঘুরতে বের হয়েছিল। বাড়ি থেকে বের হয়ে কখন তারা পানিতে নেমে গেল, কিছুই জানি না আমরা। একসঙ্গে দুই নাতিকে হারিয়ে ফেললাম।’

মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর বাদশা জানান, শিবপুর ও মনোহরদী থানার সীমান্তবর্তী নোয়াদিয়া গ্রামে গর্তের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল থেকে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই শিশু দুটির লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।