মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে তরী বাংলাদেশের প্রতিবাদ কর্মসূচি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, চর সোনারামপুর বাঁচাতে এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে নদী ও প্রকৃতি সুরক্ষা সামাজিক আন্দোলন ‘তরী বাংলাদেশ’।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে আশুগঞ্জের চর সোনারামপুরে মেঘনা নদীর তীরে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে-মাঝি, নদী ও পরিবেশকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে নিয়ে ‘দেশ ও পরিবেশ বাঁচাতে নদী বাঁচাও’, ‘অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ কর’, ‘নদী বাঁচাও, পরিবেশ বাঁচাও’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকা ও চর সোনারামপুরের বাঁধ হুমকির মুখে পড়ছে। এতে নদীভাঙন বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তারা অবিলম্বে মেঘনা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, বালুমহাল কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং চর সোনারামপুরের বাঁধ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
এ সময় স্থানীয় স্কুল শিক্ষক শিপন দাস বলেন, বারবার প্রতিবাদ করেও আমরা কোনো সমাধান পাচ্ছি না। আমরা এখন ভয়ের মধ্যে আছি যে আমাদের গ্রামটা রক্ষা হবে কি-না। আমরা যাদের কাছে যাচ্ছি সবাই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে কিন্তু কোনো সমাধান হচ্ছে না।
তরী বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক শামীম আহমেদ বলেন, আমরা চর সোনারামপুর ঘুরে দেখলাম এখনকার মানুষজন খুব ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। আমরা স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে জানতে পারলাম যে, প্রতি রাতে এই গ্রামের চার দিক ঘিরে অগণিত ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হয়। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে কোন বালুমহল ইজারা দেওয়া নেই, এখানে যারা বালু উত্তোলন করে তারা কিশোরগঞ্জের। সীমানা অতিক্রম করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমানার ভিতরে এসে বালু উত্তোলন করছে। প্রশাসন যদি ব্যবস্থা না নেয় অচিরেই হারিয়ে যেতে পারে চর সোনারামপুর গ্রামটি।
উক্ত কর্মসূচিতে আরো উপস্থিত ছিলেন,তরী বাংলাদেশের সদস্য সোহেল রানা ভূইয়া, সুশান্ত পাল, খাইরুজ্জামান ইমরান, নাজমুল খান, বাচ্চু মিয়াসহ স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে-মাঝি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।