০৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩:০৯

২৯ বছরেও হয়নি রাস্তা, কাদাপানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের

কাদাপানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা ও এক শিক্ষার্থী পেছলে পড়ে গেলে সহপাঠী তাকে টেনে তুলছে  © টিডিসি

২৯ বছর ধরে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ঘোড়াচুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা পাকা হয়নি। বর্ষা এলেই কাদাপানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। এতে বই-খাতা ও পোশাক ভিজে যাওয়ার পাশাপাশি পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঝুঁকিও থাকছে। দীর্ঘদিনের এ দুর্ভোগে নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতিও ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৮ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে রেজি. বিদ্যালয় থেকে ২০১৩ সালে জানুয়ারি মাসে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। ২০১১ সালে দোতলা একটি ভবনও নির্মাণ করা হয়।  বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিশুশ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৮৪ জন শিক্ষার্থী ও ছয়জন শিক্ষক রয়েছেন। 

বিদ্যালয়ে যাতায়াত প্রসঙ্গে ঘোড়াচুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী বিশাল দাস বলে, ‘বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে কষ্ট হয়। আমাদের অনেক বন্ধুরা এ মৌসুমে স্কুলে নিয়মিত ক্লাস করে না।’

পঞ্চম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী জান্নাতি খাতুন জানায়, বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির শুরু হলে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে খুবই কষ্ট হয়। কখনো কখনো পড়ে গিয়ে বই-খাতা ভিজে যায়।

অপর শিক্ষার্থী প্রিয়ন্তী দাস জানায়, বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয় যেতে পড়ে যাওয়ার ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়েই আসে না।

বিদ্যালয়র সহকারী শিক্ষক হেমন্ত দাস বলেন, বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা আসতে গিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে যায় পোশাক ও বই-খাতা। অনেকে ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে এলেও পুরো বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম থাকে।

রাস্তা না থাকা প্রসঙ্গে ঘোড়াচুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনজিৎ কুমার দাস বলেন, ‘বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য ৮২০ ফুট রাস্তা কাঁচা রয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তায় কাদাপানি জমে থাকায় ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা পড়ছে চরম বিপাকে। বিষয়টি নিয়ে আমি স্থানীয় মেম্বার, চেয়ারম্যানদের অনেকবার অবগত করেছি। বর্ষা মৌসুম আসলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের সীমা থাকেনা। কোমলমতি বাচ্চাদের জন্য রাস্তাটি নির্মাণ খুবই প্রয়োজন।’

স্থানীয় মেগচামী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার সনৎ কুমার দাস বলেন, ‘ফুলেশ্বরি পানি উন্নয়ন সমবায় সমিতির উদ্দ্যোগে খালের পার দিয়ে ১৯৯৭ সালে রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়। রাস্তাটি এখন এই এলাকার মানুষের একমাত্র চলাচলের মাধ্যম। বৃষ্টি- কাদা যাই হোক, এটি ছাড়া চলাচলের অন্য কোনো মাধ্যম নেই। রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে অবগত করা হয়েছে।

মেগচামী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ সাবিদ উদ্দীন শেখ সাব্বির বলেন, ‘রাস্তাটির করুণ অবস্থা। বর্ষা মৌসুমে বাচ্চাদের স্কুলে যেতে খুবই কষ্ট করতে হয়। আমি কিছুদিন আগেও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে এ বিষয়ে অবগত করেছি। রাস্তাটি দ্রুত নির্মাণ করে দিতে পারলে আমার কাছেও ভাল লাগত।’

এ প্রসঙ্গে মধুখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা বেগম বিথী বলেন, ‘আমি এ উপজেলায় অল্প কয়েক দিন দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। এখনো স্কুলটিতে যাওয়া সম্ভব হয়নি। আপনি বললেন বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার চেষ্টা করব।’