টেন্ডার ছাড়াই বিদ্যালয়ের মালামাল বিক্রির চেষ্টা, স্থানীয়দের বাধা
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার গোহাইলবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত লোহার বেঞ্চ, জানালা ও অন্যান্য মালামাল উন্মুক্ত টেন্ডার ছাড়াই বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মালামালবাহী ট্রাক স্থানীয়রা আটকে দিলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে টেন্ডারের আওতার বাইরে থাকা মালামাল উদ্ধার করে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে রাখা হয়। ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ৬ জুলাই বিদ্যালয়ের চারটি পরিত্যক্ত ভবনের টিন, ইট, দরজা, জানালা ও লোহার অ্যাঙ্গেল উন্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে ৩ লাখ ১৬ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ওই টেন্ডারের আওতার বাইরে থাকা বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত ১৮টি লোহার বেঞ্চের অ্যাঙ্গেল, একটি বড় লোহার জানালাসহ প্রায় ৩০ হাজার টাকার মালামাল আলাদাভাবে কোনো টেন্ডার ছাড়াই বিক্রি করা হয়। এসব মালামাল ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা ট্রাকটি গোহাইলবাড়ী বাজারে আটকে দেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন বলেন, টেন্ডারের সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন। সেখানে শুধু পরিত্যক্ত চারটি ভবনের মালামাল বিক্রি করা হয়েছিল। পরে ট্রাকে বিদ্যালয়ের বেঞ্চের অ্যাঙ্গেল ও বড় লোহার জানালাসহ অতিরিক্ত মালামাল তোলা দেখে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়দের সহায়তায় ট্রাকটি আটকানো হয়। পরে পুলিশ ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে এসে মালামাল উদ্ধার করে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে দেন।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষকের নির্দেশনা ছাড়া তিনি কোনো কাজ করেন না। তবে তিনি টেন্ডার ছাড়াই প্রায় ১৩ হাজার টাকার লোহাজাতীয় মালামাল বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী বলেন, একজন আত্মীয় অসুস্থ থাকায় তিনি দুপুরে বিদ্যালয় থেকে চলে যান। পরে কী কী বিক্রি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। বিষয়টি প্রকৌশলী ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ভালো বলতে পারবেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব্বির আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে টেন্ডারের আওতার বাইরে থাকা অতিরিক্ত কিছু লোহার মালামাল উদ্ধার করে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।